📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য ছাড়া কোনো শিক্ষক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ২৫ দিনের শাটডাউন চলাকালীন এই সভায় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে গতকাল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসে এবং সভা আহ্বান করেন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য ছাড়া কোনো শিক্ষক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। টানা ২৫ দিনের শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন চলাকালীন এই অনলাইন সভায় উপাচার্য একাকী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছেন, চুয়েটের ছয়জন শিক্ষক সদস্যই সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য ছাড়া কোনো শিক্ষক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না — ১৫ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ১ জন উপস্থিত ছিলেন
- 📌 উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসে এবং সভা আহ্বান করেন
- 📌 সভায় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি — শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে
- 📌 সিন্ডিকেটের ১৭টি সদস্য পদে ১৫ জন সদস্য — সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য
📰 বিস্তারিত
চুয়েটের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইনে। সভায় উপস্থিত ছিলেন শুধুমাত্র উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান জানান, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য (ছয়জন) সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভার বিষয়ে উপাচার্য নিজেই জানাবেন বলে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। গত সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে ভেতরে রেখে ভবনের ফটকে আবার তালা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিরে তিনি সভা আহ্বান করেন।
সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ সদস্য পদ ১৭টি। তবে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদটি শূন্য। সভার সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা চালু কিংবা অচলাবস্থা নিরসনে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন জানান, সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়েও সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।
"সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে"
চুয়েটের শিক্ষকদের মধ্যে কেউ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, ছুটিতে থাকায় তিনি সভায় অংশ নেননি। অন্যদিকে অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল জানান, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় তিনি যোগ দেননি। সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা যেমন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন, অধ্যাপক সুনীল ধর, অধ্যাপক আসিফুল হক, ইব্রাহিম খান সহ অন্যান্য সদস্যরা মুঠোফোনে কল করা হলেও সাড়া দেননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম, সিন্ডিকেট সদস্য জাহিদুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ জন সদস্য (১ জন উপস্থিত), ২৫ দিনের শাটডাউন, ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, ১৭টি সদস্য পদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!