📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ৫৬ দিনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে কেন সরানো হলো তা জানতে চাইছে। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের দাবি তুলে ধরেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ৫৬ দিনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে কেন সরানো হলো তা জানতে চাইছে। তারা ‘প্রশ্নযাত্রা’ কর্মসূচির আওতায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের দাবি তুলে ধরেছেন। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ৫৬-এর পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন যুক্ত প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ‘প্রশ্নযাত্রা’ কর্মসূচিতে ৫৬ দিনে অধ্যাপক সায়েমকে কেন সরানো হলো তা জানতে চেয়েছেন।
- 📌 কর্মসূচির ৭ম দিনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার দাবি তুলে ধরেছেন।
- 📌 শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য শেখ শরিফুল আলমের যোগদানকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন এবং পথনাট্য করেছেন।
- 📌 শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতিও ২১ সেপ্টেম্বর সায়েম স্যারকে সরিয়ে দেওয়ার প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি তুলে ধরেছে।
- 📌 শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের দাবি তুলে ধরেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা রক্ষার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
চুয়েটের শিক্ষার্থীরা আজ রোববার বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। কর্মসূচির নাম ‘প্রশ্নযাত্রা’। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে আবার শহীদ মিনারে ফিরে এসেছেন। এরপর সেখানে সমাবেশ করেছেন। কর্মসূচির ৭ম দিনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার দাবি তুলে ধরেছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেছেন, অধ্যাপক সায়েম অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য শিক্ষক ও উপাচার্য ছিলেন। তাঁর ৫৬ দিনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চুয়েট দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে ছিল। কিন্তু হঠাৎ তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারছেন না। তারা দাবি তুলেছেন, সায়েম স্যারকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন, চুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আজকের কর্মসূচিতে একটাই প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করেছি। প্রতিটি প্ল্যাকার্ডে ৫৬-এর পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা জানতে চেয়েছি, ৫৬ দিনেই কেন অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণ করা হয়েছে।’
শিক্ষার্থী নাফিসা রিদিতা বলেছেন, ‘আমরা একটা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আমরা সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল চাই। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পথনাট্য করেছেন। এতে তারা নতুন উপাচার্য শেখ শরিফুল আলমের যোগদানকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরেছেন।
বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম, মৌমিতা দত্ত প্রিয়া ও রাতুল হাসান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন। তারা বলেছেন, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক কলাবোরেশন অফিস, রিসার্চ হাব, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগসহ নানা প্রগতিশীল পদক্ষেপ শুরু করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের মতে, এসব উদ্যোগ পর্যাপ্ত সময় পেলে চুয়েটের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও স্পষ্ট হতে পারত।
শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের দাবি তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বর্তমান সরকার চুয়েটের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সম্মিলিত মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে বলে প্রত্যাশা করছি। চুয়েট পরিবারের উদ্বেগ, দেশ-বিদেশের অ্যালামনাইদের সংহতি, আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলের সমর্থন ও অধ্যাপক সায়েম স্যারের গৃহীত শিক্ষা ও গবেষণামুখী উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি এদিকে একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়। সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেছেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধারণ করা। আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি না। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, বর্তমান সরকারের মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের চলমান সমস্যার সমাধান করুন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি রক্ষা করুন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী বলেছেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েম স্যারকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। সম্মানিত শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’
"আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বর্তমান সরকার চুয়েটের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সম্মিলিত মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে বলে প্রত্যাশা করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান, নাফিসা রিদিতা, শাহরিয়ার হিশাম, মৌমিতা দত্ত প্রিয়া, রাতুল হাসান, সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ, প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ দিন, ৭ম দিন, ২১ সেপ্টেম্বর, ১১টা থেকে ১টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!