📌 চুয়েটের অচলাবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। সংকটনিরসন কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি নেই। উপাচার্য নিয়োগের বিরোধে চলমান আন্দোলন থেকে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) প্রায় এক মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। উপাচার্য নিয়োগের বিরোধে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে। সংকট নিরসনে গঠিত কমিটিতেও চুয়েটের প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষুব্ধতা সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের অচলাবস্থা শুরু হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে
- 📌 শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনতে পুলিশের সহায়তা নেয় ১৩ অক্টোবর
- 📌 সংকটনিরসন কমিটিতে চুয়েটের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি
- 📌 কমিটিতে ৫ সদস্যের মধ্যে ৪ জনই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
- 📌 শিক্ষার্থী আহনাব শাহরিয়ার অর্ণব দাবি করছেন: সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে
📰 বিস্তারিত
চুয়েটের অচলাবস্থা শুরু হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যে সায়েম স্যারকে অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করে। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে যুক্ত হন।
১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়। এরপর তিনি আর ক্যাম্পাসে ফেরেননি। তবে ১৬ অক্টোবর তিনি অনলাইনে সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে এই কমিটিতে চুয়েটের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ১৫ সদস্যের সিন্ডিকেট সভায় মাত্র ছয়জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে শেখ শরীফুল আলম ছাড়া চুয়েটের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। ফলে এই সভাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির কাছে কমিটি গঠনের সুপারিশ পাঠায়। ইউজিসি পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে, কিন্তু চুয়েটের প্রতিনিধি রাখা হয়নি।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাব শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘আমাদের দাবি পরিষ্কার। সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে। আর ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে শিক্ষার্থীদের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন ভিসি। তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।’
"আমাদের দাবি তো একেবারে পরিষ্কার। সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে। আর ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে শিক্ষার্থীদের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন ভিসি। তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, শেখ শরীফুল আলম, আহনাব শাহরিয়ার অর্ণব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ সদস্যের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত ৬ জন, অনুপস্থিত ৯ জন (৬০%)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!