📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন ২.৮৯ সিজিপিএ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পূর্ণ বৃত্তি ও মাসিক ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা স্টাইপেন্ডে পিএইচডি শুরু করবেন। গতকাল রাতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন ২ দশমিক ৮৯ সিজিপিএ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (কেআইএসটি) পূর্ণ বৃত্তি ও মাসিক ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা স্টাইপেন্ডে পিএইচডি করার জন্য গতকাল মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এই সুযোগ পেয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসাসহ সকল প্রয়োজনীয় খরচ বহন করবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২.৮৯ সিজিপিএ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএইচডি করবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন
- 📌 পূর্ণ বৃত্তি ও মাসিক ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা স্টাইপেন্ড পেয়ে কেআইএসটি-এ গবেষণা শুরু করবেন
- 📌 ৩টি আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত ও ২টি রিভিউ পেপার প্রকাশের ইতিহাস রয়েছে ইকবালের
- 📌 বুয়েট থেকে ৩.৫০ সিজিপিএ নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন ইকবাল
- 📌 বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে ইকবাল
📰 বিস্তারিত
ইকবাল হোসেনের বেড়ে ওঠা ঢাকার আজিমপুরে। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে তার সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক শূন্য ১, কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে তা নেমে আসে ২ দশমিক ৮৯। তবে পুনঃপরীক্ষায় ফল উন্নত হয় এবং তিনি ৩ দশমিক ৩০ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
ইকবালের পিএইচডি করার স্বপ্ন পূরণের পথে গবেষণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডিজ সোসাইটির (সিইউসিএসএআর) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকার মাধ্যমে তিনি নেটওয়ার্কিং ও নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
তৃতীয় বর্ষ থেকেই তিনি বাংলাদেশের প্রচলিত খাবার, বিশেষ করে দুগ্ধজাত পণ্যে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তার তিনটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং স্নাতকে থাকাকালীন দুটি রিভিউ পেপারও প্রকাশিত হয়েছে। বুয়েট থেকে বায়োকেমিক্যাল টেকনোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি ২০২৫ সালে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ অর্জন করেন।
"সাংগঠনিক কার্যক্রম আমাকে সহায়তা করেছে। সংগঠনের কাজ করতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, নেটওয়ার্কিং ও নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাই। সে সময় মানুষের কাজে লাগতে পারার অনুভূতি আমাকে আরও কাজ করতে উৎসাহিত করেছে।"
ইকবাল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা ছিল তার প্রথম বাধা। নতুন পদ্ধতির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেননি তিনি। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সিজিপিএ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া শিক্ষার্থীদের গল্প দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। বন্ধুদের সঙ্গে আইইএলটিএস ও গবেষণা নিয়ে আলোচনা করতেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে বৃত্তি নিয়ে আলোচনা করতেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইকবাল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২.৮৯ (সিজিপিএ), ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা (স্টাইপেন্ড), ৩টি (গবেষণাপত্র), ২টি (রিভিউ পেপার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!