📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের প্রভোস্টসহ চারজনকে অনলাইন হয়রানি ও মারধর মামলায় জড়িত করে শিক্ষার্থীরা হলের গেটে তালা দেন। মামলাকারী শিক্ষার্থী রুবেল রানা দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তালা খুলে দিয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের অভ্যন্তরে তালা দেওয়ার ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে এক শিক্ষার্থীর মামলা প্রতিবাদে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় হলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হস্তক্ষেপ করে তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই ঘটনার পিছনে রয়েছে রুবেল রানা নামের এক শিক্ষার্থীর মামলা, যিনি প্রভোস্টসহ চারজনকে অনলাইন হয়রানি ও মারধর মামলায় জড়িত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের প্রভোস্টসহ চারজনকে মামলায় জড়িত করে শিক্ষার্থীরা হলের গেটে তালা দেন।
- 📌 মামলাকারী রুবেল রানা (রসায়ন বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং গালিগালাজ করা হয়েছে।
- 📌 মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান চৌধুরী, আজাদ (স্পোর্টস সায়েন্স, ২০১৮-১৯), মো. ইয়াছিন আরাফাত (মেরিন সায়েন্স, ২০২১-২২), রিয়াজ মাহমুদ (আইন, ২০২০-২১) ও পলাশ দাস (পরিসংখ্যান, ২০২১-২২)।
- 📌 শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, রুবেল রানা হলের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে হয়রানি করেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামরুল হোসেন বলেছেন, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রুবেল রানা (রসায়ন বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) গত ২ সেপ্টেম্বর ভলিবল খেলা নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কথা-কাটাকাটি করার পর হুমকি ও মারধর মামলা দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হলেও রুবেল রানা মুচলেকা দেন। পরে তিনি ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান চৌধুরী, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের আজাদ (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ), মেরিন সায়েন্স বিভাগের মো. ইয়াছিন আরাফাত (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ), আইন বিভাগের রিয়াজ মাহমুদ (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) এবং পরিসংখ্যান বিভাগের পলাশ দাস (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ)। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, রুবেল রানা হলের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে হয়রানি করেন এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, রুবেল রানার কক্ষ সঙ্গীসহ অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ।
মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, ‘রুবেল রানা হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেন না। তাঁর বিরুদ্ধে সব শিক্ষার্থী নিয়মিত অভিযোগ দেন। তিনি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা এই মামলা প্রত্যাহার চাই। এ ঘটনায় তাঁর উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
মামলাকারী রুবেল রানা বলেছেন, ‘আমাকে জুনিয়র দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। আমি কারও কাছে কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমি হলে নিরাপদ বোধ করছি না। তাই আমি মামলা করেছি।’
তালা দেওয়ার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। শাহ আমানত হলের শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামরুল হোসেন বলেছেন, ‘আমানত হলে তালা দেওয়ার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অভিযুক্তকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের শান্ত করে পরে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"আমাকে জুনিয়র দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। আমি কারও কাছে কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমি হলে নিরাপদ বোধ করছি না। তাই আমি মামলা করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ আমানত হল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুবেল রানা, অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান চৌধুরী, মো. ইয়াছিন আরাফাত, প্রক্টর ড. কামরুল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১:৩০ (রাত), ২:০০ (রাত), ২ সেপ্টেম্বর, ৩ সেপ্টেম্বর, ৯ সেপ্টেম্বর, ১৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!