📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ২৮ দিন ধরে অচল থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ইউজিসিকে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য জরুরি সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ২৮ দিনের অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চিঠিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজার জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সদস্য পর্যায়ে গঠিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৮ দিনের অচলাবস্থা** থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে উচ্চক্ষমতা কমিটি গঠনের জরুরি সুপারিশ দিতে বলেছে
- 📌 **১৮ অক্টোবর** তারিখে মন্ত্রণালয় চিঠিতে এই নির্দেশনা প্রদান করে, যেখানে ইউজিসিকে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য জরুরি সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে
- 📌 **১৬ অক্টোবর** চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে উচ্চক্ষমতা কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল
- 📌 **২১ সেপ্টেম্বর** থেকে শুরু হওয়া অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের **৬টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত** হয়েছে, নতুন পরীক্ষাসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে
- 📌 **১২ অক্টোবর** নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলমকে শিক্ষার্থীরা **৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ** রাখেন, পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাঁকে নিরাপদে বের করে আনে
📰 বিস্তারিত
চুয়েটের অচলাবস্থা শুরু হয় গত **২১ সেপ্টেম্বর**। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপাচার্য ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা হয়। তিনি **২৭ জুলাই** দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র **৫৬ দিন** পরে পদচ্যুত হন। তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং **২২ সেপ্টেম্বর** থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু হয়। প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয় এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে যুক্ত হন। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। **৬টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত** হওয়ায় নতুন পরীক্ষাসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটির সময় ক্যাম্পাস আরও ফাঁকা হয়ে পড়ে।
গত **১২ অক্টোবর** নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে প্রশাসনিক ভবনে **৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ** রাখেন। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তার সঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
"চুয়েটের বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসন ও একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে ইউজিসির সদস্য পর্যায়ে তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ বা প্রস্তাব জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ড. শেখ শরীফুল আলম, ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ দিন, ১৪৫তম সিন্ডিকেট সভা, ১৫ সদস্য, ৬টি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত, ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!