📌 বরিশালের বিএম কলেজে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা চিকিৎসা ফি নেওয়া হলেও চিকিৎসাকেন্দ্রে জরুরি ওষুধ, অ্যাম্বুলেন্স ও স্ট্রেচারের অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি জানাচ্ছেন, ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর সেশন চার্জের সঙ্গে ২০ টাকা করে চিকিৎসাকেন্দ্র খাতে ফি নেওয়া হলেও, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সপ্তাহে তিন দিন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও, ওষুধ, অ্যাম্বুলেন্স, স্ট্রেচার বা জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবের কারণে তারা সেবা পাচ্ছেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রতিবছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০ টাকা চিকিৎসা ফি দিতে হয়, যা ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বছরে ৬ লাখ টাকা জমা হয়
- 📌 চিকিৎসাকেন্দ্রে প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, অ্যাম্বুলেন্স, হুইলচেয়ার বা স্ট্রেচারের মতো জরুরি সামগ্রী পাওয়া যায় না
- 📌 গত বছরে চিকিৎসা না পেয়ে অবহেলায় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রুমানা আক্তার সুমির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবিতে চিকিৎসক নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা দাবি করা হয়েছিল
- 📌 ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ বলেছেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও কিছু ওষুধ সরবরাহ করা হবে, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন্ত্রণালয়ে দাবি জানানো হবে
📰 বিস্তারিত
বরিশালের বিএম কলেজে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও কলেজের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, অ্যান্টিহিস্টামিন, খাওয়ার স্যালাইন, অ্যান্টিসেপটিক বা ব্যান্ডেজের মতো জরুরি ওষুধ পাওয়া যায় না। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, হুইলচেয়ার, ট্রলি বা স্ট্রেচারের ব্যবস্থাও নেই।
গত বছরের অক্টোবরে চিকিৎসা না পেয়ে অবহেলায় ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রুমানা আক্তার সুমির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। কলেজের জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন কলা ভবন-২-এর নিচতলায় অবস্থিত চিকিৎসাকেন্দ্র সপ্তাহে মাত্র তিন দিন খোলা থাকে। তবে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা সেবা পাচ্ছেন না।
কলেজের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সেশন চার্জের সঙ্গে ২০ টাকা করে চিকিৎসাকেন্দ্র খাতে দিতে হয়। সে হিসাবে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা জমা হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এই ফি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিষয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামীমা জাহান বলেন, “চিকিৎসাকেন্দ্র সম্পর্কে অনেক শিক্ষার্থী জানেন না। সেখানে গেলেও কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।” রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার বলেন, “সাম্প্রতিককালে আমার বান্ধবীরা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছেন।” ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী গিয়াস উদ্দিনও একই অভিযোগ করেন, “অনেক সময় চিকিৎসককে পাওয়া যায় না।”
গত মে মাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাধ্যমে ১০ দফা দাবি জানান। এর মধ্যে ছিল স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সপ্তাহে তিন দিনের জন্য একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয়নি।
চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক নাইমা জান্নাত বলেন, “বর্তমানে পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দ্রুত সরবরাহ করা দরকার।” সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ শেখ মো. তাজুল ইসলামকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বলেন, “চিকিৎসাকেন্দ্রে শিগগিরই অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করা হবে। কিছু জরুরি ওষুধও সরবরাহ করা হবে। অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে মন্ত্রণালয়ে দাবি জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।”
"চিকিৎসাকেন্দ্র সম্পর্কে অনেক শিক্ষার্থী জানেন না। সেখানে গেলেও কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না"
"অনেক সময় চিকিৎসককে পাওয়া যায় না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল, ব্রজমোহন কলেজ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী রুমানা আক্তার সুমি, শিক্ষার্থী শামীমা জাহান, আসমা আক্তার, গিয়াস উদ্দিন, চিকিৎসক নাইমা জান্নাত, অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ টাকা (ফি), ৩০ হাজার (শিক্ষার্থী), ৬ লাখ টাকা (বছরে জমা), ১০ দফা (দাবি), ৩২ বছর (বদরুল আলম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!