📌 বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শাখা চালুর গুজবে বিক্ষোভের পর অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। অধ্যক্ষ তাদেরকে সন্তান-সন্তান তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন এবং ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অভিভাবকরা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শাখা চালুর গুজবে বিক্ষোভের পর অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে পড়াশোনা শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিন ইসলাম দাইয়ামসহ একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহার কক্ষে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। অধ্যক্ষ তাদেরকে সন্তান-সন্তান তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন এবং ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তাহমিন ইসলাম দাইয়ামসহ ১২ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে
- 📌 অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেছেন, ‘আমি তোমাদেরকে আমার সন্তানের মতো’ এবং ‘ক্লাসে ফিরে নিয়মিত পড়াশোনা করো’
- 📌 বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পা জড়িয়ে ধরে এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করে
- 📌 মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমা চেয়েছে এবং বর্তমানে ক্লাস চলছে
- 📌 অভিভাবকরা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন
- 📌 প্রাথমিক শাখা বন্ধ থাকলে ১১০টি ভর্তি আসন কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা
📰 বিস্তারিত
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গত সোমবার প্রাথমিক শাখা চালুর গুজবে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। সকালে তাহমিন ইসলাম দাইয়ামসহ একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তাঁর পা জড়িয়ে ধরে। তাহমিন অধ্যক্ষকে বলেন, ‘আপনি মাফ করেছেন, বলেন?’ জবাবে অধ্যক্ষ তাদের জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মাফ তো করবই, তোমরা আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তানের বয়স তোমাদের চেয়ে অন্তত পাঁচ-ছয় বছর বেশি। আমি অনুরোধ করব, তোমরা ক্লাসে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস করো।’
অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা জানান, শিক্ষার্থীরা হয়তো তাঁকে বুঝতে ভুল করেছে। তিনি বারবার বলেছেন, প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা হয়তো বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘আগের দিনের ঘটনার জন্য শিক্ষার্থীরা যেমন অনুতপ্ত, তেমনি আমারও খারাপ লাগছে। তাদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলেছি এবং নিজেই শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে দিয়ে এসেছি।’
বরিশাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসে ক্ষমা চেয়েছে। বর্তমানে ক্লাস চলছে। এদিকে, কলেজটিতে প্রাথমিক শাখা চালুর দাবিতে অভিভাবকরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই প্রাথমিক শাখা চালু ছিল। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে হঠাৎ সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবছর সরকারি স্কুলগুলোতে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৮ থেকে ৯ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করে। এই অবস্থায় মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখা বন্ধ থাকলে ভর্তির জন্য ১১০টি আসন কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
"আমি তোমাদেরকে আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তানের বয়স তোমাদের চেয়ে অন্তত পাঁচ-ছয় বছর বেশি। আমি অনুরোধ করব, তোমরা ক্লাসে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস করো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা, তাহমিন ইসলাম দাইয়াম, মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮-৯ হাজার (ভর্তি আবেদনকারী), ১১০টি (ভর্তি আসন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!