📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্রনেতা মিজান মিয়া কর্মসংস্থানের সুযোগ চান। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসককে আবেদন করেছেন। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, বেকার থাকায় স্ত্রীর চিকিৎসা ও পরিবারের ভরণপোষণ কঠিন হয়ে পড়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্রনেতা মিজান মিয়া কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসককে সরাসরি আবেদন করেছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিজান মিয়া (৪২, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী) চবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে বিএনপি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- 📌 পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট: স্ত্রীকে নিয়ে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন। স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা ও বেসরকারি ক্লিনিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর কতদিন কাজ করতে পারবেন তা নিশ্চিত নয়।
- 📌 বেকারত্বের কারণে মিজান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি চবির প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদেও আবেদন করেছেন।
- 📌 বিশেষ বিবেচনায় কর্মসংস্থান চাইতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আবেদন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনি মানবতার মূর্ত প্রতীক’।
- 📌 ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছেন, কিন্তু নিজের অধিকার পাওয়ার জন্য আশা প্রকাশ করেছেন।
- 📌 আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারি আশ্বাস না পেলে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন।
📰 বিস্তারিত
মিজান মিয়া সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি চবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
তিনি নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরেন। স্ত্রীকে নিয়ে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন। স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্ত্রী আর কতদিন কাজ করতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মিজান বলেন, লেখাপড়া শেষ করেও বর্তমানে তিনি বেকার। এ কারণে স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মিজান জানান, তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি চবির প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদেও আবেদন করেছেন। বিশেষ বিবেচনায় একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেছেন তিনি।
মিজান মিয়া বলেন, ‘আমি মানবতার মূর্ত প্রতীক প্রধানমন্ত্রীকে আশা করছি। আপনার হাত ধরে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা যখন আপনার দিকে তাকাই, তখন ভাগ্যের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি।’ তিনি নিজেকে টেলিফোন অপারেটর পদের জন্য যোগ্য দাবি করে বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পেলে তাঁকে চিন্তাভাবনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে তাঁর আন্দোলন রাষ্ট্র, সরকার বা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ন্যায্য অধিকারের জন্য আন্দোলন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।
"আপনি মানবতার মূর্ত প্রতীক, আপনার হাত ধরে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা যখন আপনার দিকে তাকাই, তখন ভাগ্যের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিজান মিয়া (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্রনেতা, চবি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ হাজার শিক্ষার্থী, ৩০ সেপ্টেম্বর (তারিখ), ৩ টা (বিকেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!