📌 কানাডার একজন অধ্যাপক নিজের প্রিয় শিক্ষক ভবসিন্ধু বিশ্বাস স্যারের সাথে পুনরায় মিলিত হন। খুলনা পলিটেকনিকের শিক্ষক হিসেবে তিনি কীভাবে ছাত্রের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন, তার গল্পে পাঠকদের মন গভীরে স্পর্শ করে
কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন একজন ব্যক্তি। তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক হিসেবে তিনি স্মরণ করেন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের একজন শিক্ষক, ভবসিন্ধু বিশ্বাস স্যার। বছর কয়েক আগে তিনি স্যারের সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং সেই স্মৃতিচারণের গল্পে পাঠকদের মন গভীরে স্পর্শ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভবসিন্ধু বিশ্বাস স্যার একজন পলিটেকনিকের শিক্ষক ছিলেন, যিনি কানাডার একজন অধ্যাপকের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।
- 📌 স্যার অষ্টম শ্রেণিতে ছাত্রের কাছে প্রথম পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং তার মাত্র তিন নম্বর পেয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন, যা ছাত্রের জীবনে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
- 📌 স্যারের একটি কথা — 'আমি যদি লিখে দিই, সেটা হবে আমার ভাষা' — ছাত্রকে শেখিয়েছিল নিজের ভাষায় কাজ করার গুরুত্ব।
- 📌 স্যারের শিক্ষা ছাত্রকে শুধু অঙ্কের সঠিক উত্তর শেখাননি, বরং নির্ভুলতা, শৃঙ্খলা এবং কাজের প্রতি সততা শেখিয়েছিলেন।
- 📌 অধ্যাপক বলেছেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি ভবসিন্ধু বিশ্বাস স্যারের মতো একজন শিক্ষক থাকতেন, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা আরো গুণগতভাবে উন্নত হত।
📰 বিস্তারিত
এক সন্ধ্যাকালীন আড্ডায় গিয়ে একজন ব্যক্তি তার প্রিয় শিক্ষকদের কথা বলছিলেন। সেখানে উপস্থিত একজন ভদ্রলোক প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি তো বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। আপনার প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে বলুন না?” সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ব্যক্তি তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক ভবসিন্ধু বিশ্বাস স্যারের সাথে পুনরায় যোগাযোগের গল্প শেয়ার করেন।
বহুদিন ধরে স্যারের খোঁজে ছিলেন তিনি। একদিন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধানকে ফোন করে জানতে চাইলেন স্যারের অবস্থান। বিভাগীয় প্রধান জানিয়ে দিলেন, স্যার এখন ক্লাসে আছেন। ফোনে কথা বলার পর ব্যক্তি স্যারের সাথে এক ঘণ্টা পরে আবার যোগাযোগ করেন। সেই এক ঘণ্টা অপেক্ষা তাকে তার কৈশোরের স্মৃতিতে নিয়ে যায়।
স্যারের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল অষ্টম শ্রেণিতে। স্যার প্রথমেই ছাত্রকে একটি অঙ্কের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ছাত্রের খাতায় মাত্র তিন নম্বর পেয়েছে বলে জানিয়ে দিলেন স্যার। ছাত্র হতভম্ব হয়ে খাতাটা দেখলেন এবং বুঝতে পারলেন, স্যারের কথা সত্য। স্যার তাকে শেখিয়েছিলেন যে, অঙ্কের উত্তর সঠিক হলেই অঙ্ক সঠিক নয়; সঠিকভাবে উপস্থাপন করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্যারের শিক্ষা ছাত্রকে শুধু অঙ্কের সঠিক উত্তর শেখাননি, বরং নির্ভুলতা, শৃঙ্খলা এবং কাজের প্রতি সততা শেখিয়েছিলেন।
ছাত্রের জীবনে স্যারের একটি কথা বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছিল। স্যার বলেছিলেন, “আমি যদি লিখে দিই, সেটা হবে আমার ভাষা। কিন্তু তোমাকে তো নিজের ভাষায় লিখতে বলা হয়েছে!” সেই কথাটি ছাত্রের মনে গভীরভাবে জমে যায়। বহু বছর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে বুঝতে পারলেন, নিজের মতো করে না লিখে অন্যের লেখা অনুসরণ করাকে শিক্ষা ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
"আমি যদি লিখে দিই, সেটা হবে আমার ভাষা। কিন্তু তোমাকে তো নিজের ভাষায় লিখতে বলা হয়েছে!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভবসিন্ধু বিশ্বাস স্যার, কানাডার অধ্যাপক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় পেয়েছিলেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!