📌 রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে তিন শিক্ষককে পদাবনতি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জানান, শাস্তির পদ্ধতি অনুসরণ করে পদাবনতি করা হয়েছে
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যৌন হয়রানির অভিযোগে তিন শিক্ষককে পদাবনতি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে গত বছরের যৌন হয়রানির অভিযোগ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষককে পদাবনতি করা হয়েছে যৌন হয়রানির অভিযোগে।
- 📌 ড. মো: রশীদুল ইসলাম (পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক) পদ থেকে অবনমিত হয়ে সহযোগী অধ্যাপক হন।
- 📌 মো: শামীম হোসেন (ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক) পদে অবনমিত হয়ে প্রভাষক হন।
- 📌 ড. শাকিবুল ইসলাম (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক) পদে অবনমিত হয়ে সহকারী অধ্যাপক হন।
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কার্যকর হয়।
- 📌 গত ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপে ছাত্রীর মাধ্যমে অভিযোগের স্ক্রিনশট প্রকাশিত হয়।
- 📌 ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শওকাত আলী জানান, শাস্তির পদ্ধতি অনুসারে পদাবনতি করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মো: শওকাত আলী বলেছেন, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তি পাবেন না এবং দোষী ব্যক্তি শাস্তি এড়িয়ে যাবেন না। তিনি বলেন, প্রথমে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয় এবং তাদের প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিলে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেয়।
ভিসি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন এ বিষয়ে পর্যাপ্তভাবে প্রযোজ্য না হওয়ায় ২০১৮ সালের বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের মতামতের ভিত্তিতে বুধবারের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিন শিক্ষককে পদাবনতি করা হয়েছে। এছাড়াও, তারা কোনো নারী শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং এককভাবে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সাথে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না।
গত ১৯ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে অধ্যাপক ড. মো: রশীদুল ইসলাম ও এক ছাত্রীর মেসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছাত্রী নিজের পরিচয় গোপন রেখে স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করেন। পরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত একটি স্ট্যাটাস দেন। এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতায় নম্বর টেম্পারিং ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী।
"বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তি না পান এবং দোষী কেউ যাতে শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য প্রথমে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শওকাত আলী, ড. মো: রশীদুল ইসলাম, মো: শামীম হোসেন, ড. শাকিবুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ শিক্ষক, ১২৩তম সিন্ডিকেট সভা, ১৯ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!