📌 বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন। মাধ্যমিক, মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের হার মাত্র ২০-৬০ শতাংশের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার অভাবকে শিক্ষণদক্ষতার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, ফলে অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ শিক্ষক রয়েছে মাধ্যমিক পর্যায়ে, এর মধ্যে মাত্র ৫৯.৪৮ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
- 📌 ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ মাদরাসা শিক্ষক, তাদের মাত্র ১০-১২ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
- 📌 ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক, এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ প্রশিক্ষণহীন
- 📌 পুরুষ শিক্ষকদের ৬২.৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, নারী শিক্ষকদের মাত্র ৫২.৭৯ শতাংশ
- 📌 ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে ফাউন্ডেশন কোর্স নয়
- 📌 বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকদের দীর্ঘকালীন প্রভাবকে শিক্ষণদক্ষতার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের হার মাত্র ৫৯.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। পুরুষ শিক্ষকদের তুলনায় নারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্তির হার কম — পুরুষ শিক্ষকদের ৬২.৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, অন্যদিকে নারী শিক্ষকদের মাত্র ৫২.৭৯ শতাংশ।
মাদরাসা শিক্ষায় অবস্থা আরও খারাপ। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাদরাসা শিক্ষকদের মাত্র ১০-১২ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯.১৯ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও অবস্থা খুব ভালো নয়। এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষকদের প্রায় ২০ শতাংশ প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাজ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষকতায় প্রবেশের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণদক্ষতা প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হবেন। পাশাপাশি যেসব শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণ পাননি, তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারকে নজরদারিতে রাখতে হবে।”
এদিকে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ নয়। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে, যা ১৯৬৬ সালের আইএলও-ইউনেস্কো শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত সুপারিশমালার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
"শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হবেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (মাধ্যমিক, মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাশেদা কে. চৌধুরী (গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ (মাধ্যমিক শিক্ষক), ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ (মাদরাসা শিক্ষক), ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ (প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!