📌 বাংলার চিত্রকলার ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী’র সমালোচনায় প্রাচ্যকলা তত্ত্বের সত্যতা ও ওরিয়েন্টালিজমের ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সমালোচক মলয় বালা প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার ও লোকশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা বললেও, এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম তত্ত্বের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রাচ্যের ৩৬টি দেশের মধ্যে কোনো একক শিল্পরীতি নেই
বাংলার চিত্রকলার ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী’র সমালোচনায় প্রাচ্যকলা তত্ত্বের সত্যতা ও ঐতিহাসিক যুক্তির পেছনে লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষক মলয় বালা লিখেছেন, ‘প্রতিটি ছবির সামনে দাঁড়ালে চোখ কিছুক্ষণ থমকে থাকে’ — এমন মায়াবী আবেশের পেছনে লুকিয়ে আছে কি সত্যিই প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ওরিয়েন্টালিজম তত্ত্বের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, প্রাচ্যের ৩৬টি দেশের মধ্যে কোনো একক শিল্পরীতি নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী’র সমালোচনায় প্রাচ্যকলা তত্ত্বের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 সমালোচক মলয় বালা বলেছেন, ‘বাংলার লোকশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য, প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার ভাববৈশিষ্ট্য’ এই চিত্রকলার দৃশ্যভাষায় প্রবহমান — কিন্তু এই যুক্তির পেছনে ওরিয়েন্টালিজমের ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে বলে দাবি করা হয়েছে।
- 📌 প্রাচ্যের ৩৬টি দেশের মধ্যে কোনো একক শিল্পরীতি নেই। মিসরীয় শিল্পরীতির সঙ্গে বঙ্গীয় শিল্পরীতির কোনো মিল নেই।
- 📌 শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পচেতনা ছিল দেশ, মাটি ও প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ — কিন্তু তিনি দেশীয় ঐতিহ্যের শিকড় থেকে বিচ্যুত হননি।
- 📌 বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা’ বিভাগ নেই — সবাই ‘প্রাচ্যকলা’ নামে পরিচিত।
📰 বিস্তারিত
‘শিল্পভাষায় আত্মপরিচয় নির্মাণ’ শিরোনামে রিভিউটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক মলয় বালা। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিটি ছবির সামনে দাঁড়ালে চোখ কিছুক্ষণ থমকে থাকে’ — এমন মায়াবী আবেশের পেছনে লুকিয়ে আছে বাংলার লোকশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য, প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার ভাববৈশিষ্ট্য। কিন্তু এই যুক্তির পেছনে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচক বলেছেন, ‘বাংলার চিত্রকলা কি সত্যিই প্রাচ্যচিত্রের উত্তরাধিকার?’ এবং ‘বাংলার চিত্রকলা কি সত্যিই লোকশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য?’
এডওয়ার্ড সাঈদেরের ওরিয়েন্টালিজম তত্ত্বের আলোকে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, প্রাচ্যের ৩৬টি দেশের মধ্যে কোনো একক শিল্পরীতি নেই। মিসরীয় শিল্পরীতির সঙ্গে বঙ্গীয় শিল্পরীতির কোনো মিল নেই। আরব, চীন ও জাপানের চিত্রকলার সঙ্গে আমাদের চিত্রকলার মিল আছে কি? থাকলে এই মিলটা কবে থেকে হয়েছে? ওরিয়েন্টাল বা প্রাচ্যকলার ধারণা হওয়ার পর থেকেই এই মিলটা আমরা পাচ্ছি। সমালোচক বলেছেন, ‘প্রাচ্যকলার ধারণা যতটা সাংস্কৃতিক কারণে তৈরি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি এটা রাজনৈতিক কারণে তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এই বিভাজন করেছে প্রাচ্যকে শাসনের প্রয়োজনে।’
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পচেতনা ছিল দেশ, মাটি, মানুষ ও প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ। পঞ্চাশের দশকে ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পদৃষ্টিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও তিনি দেশীয় শিল্প–ঐতিহ্যের শিকড়ের সন্ধান থেকে বিচ্যুত হননি। বরং আধুনিক শিল্প-অভিজ্ঞতাকে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াসে তিনি গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউটে প্রাচ্যকলা বিভাগের সূচনা করেন। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন চিত্র–ঐতিহ্য, বেঙ্গল স্কুল, মিনিয়েচার ও লোকশিল্পের চর্চার মধ্য দিয়ে দেশীয় শিল্পভাষার বিকাশের ভিত্তি তিনি নির্মাণ করেছিলেন।
বাংলাদেশের পূর্বসূরি হলেন জয়নুল আবেদিন, কিন্তু গোটা ভারতবর্ষে এই ধারাবাহিকতায় ছিলেন নন্দলাল বসু, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং যামিনী রায়। তাঁরা বেঙ্গল স্কুলের ধারণাই মূলত প্রাচ্যকলার ভিত্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকাল বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা’ বিভাগ নেই — সবাই ‘প্রাচ্যকলা’ নামে পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগ ‘প্রাচ্যকলা’ নামে রয়েছে। অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গীয় শিল্পকলা’ বা ‘প্রাচ্যকলা বিভাগ’ নেই।
"প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার ভাববৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার এই চিত্রমালার দৃশ্যভাষায় প্রবহমান। তবে এর পূর্বসূরি কারা? শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কথা অনিবার্যভাবেই সামনে আসে। তাঁর শিল্পচেতনা ছিল দেশ, মাটি, মানুষ ও প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা অনুষদ, প্রাচ্যকলা বিভাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষক মলয় বালা, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, এডওয়ার্ড সাঈদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬টি দেশ (প্রাচ্য), ৮ সেপ্টেম্বর (প্রদর্শনী তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!