📌 রাজশাহীর একটি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে তালা দিয়েছেন জমিদাতা আজাদ আলী। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন ও তার পরিবারের সদস্যদের চাকরি না দেওয়ায় এসব করেছেন। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তাদের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে
রাজশাহীর পুঠিয়ার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে তালা দিয়েছেন জমিদাতা আজাদ আলী। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন ও তার পরিবারের সদস্যদের চাকরি না দেওয়ায় এসব করেছেন। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে, দাতা সদস্য আজাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১১ টায়** আজাদ আলী লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কার্যালয়ের আগের তালার ওপর আরেকটি তালা লাগান এবং প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগান।
- 📌 **২০১৫ সালে** প্রতিষ্ঠিত ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবদাতা হিসেবে আজাদ আলীর নাম রয়েছে।
- 📌 **আজাদ আলীর দাবি**: তিনি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জমি দিয়েছিলেন এবং তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন ও চাকরি না দেওয়ায় তিনি বিদ্যালয়ে তালা দিয়েছেন ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।
- 📌 **প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা** দাবি করেন, আজাদ আলী প্রাথমিকভাবে নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলেন। পরে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে দাবি করেন।
- 📌 **২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর** আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য তিনি জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান।
- 📌 **শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে** মামলা ও বিরোধের কারণে। শনিবারের ঘটনার পর বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর পুঠিয়ার ভালুকগাছি গ্রামে অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ২০২৪ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চিঠি দেয়। এরপর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ নাম নির্ধারণ করা হয়। নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবদাতা হিসেবে আজাদ আলীর নাম রয়েছে। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিকের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। পর্যায়ক্রমে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি এবং পরে উচ্চমাধ্যমিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আজাদ আলীর দাবি, তিনি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জমি দিয়েছিলেন এবং তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন ও তার পরিবারের সদস্যদের চাকরি না দেওয়ায় তিনি বিদ্যালয়ে তালা দিয়েছেন ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের কার্যক্রমও ঠিকমতো চলছে না। তবে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী শুরুতে নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলেন। স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের চাকরির দাবি করেন।
সেলিম রেজা আরও বলেন, পরে কমিটি তাঁর পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সম্মতি দেয়। আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগও দেওয়া হয়েছিল। চাকরিরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করলে নতুন বউকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে এবং ছেলেকে একটি পদে নিয়োগের প্রস্তাবেও কমিটি সম্মতি দেয়। এসব বিষয়ে রেজল্যুশন রয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।
"আমি শুরুতে নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলাম। পরে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার সময়ই আমার পরিবারের সদস্যদের চাকরির দাবি করা হয়।"
এদিকে, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান একদিনে দাঁড়ায় না। তিনি দাবি করেন, দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলছে। গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুঠিয়া, ভালুকগাছি, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজাদ আলী, প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা, মো. তৌহিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ টা, ১১ ডিসেম্বর, ৩০০ টাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ১০ তারিখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!