📌 এআই ও ডিজিটাল টুলের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে সাংবাদিকতা শিক্ষায় তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নৈতিকতার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআই লিটারেসি প্রশিক্ষণ ও তথ্যের সততা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে
সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের আগে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে, সে সম্পর্কে এক সাংবাদিক শিক্ষক বলছেন: বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয় পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ কি ছিল? সংবাদ লিখতে কি আগ্রহ আছে? ক্যামেরার সামনে গল্প বলতে কি ইচ্ছে? অথবা মানুষের গোপন গল্প তুলে ধরতে কি উদ্বেগ? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সাংবাদিকতা হতে পারে আপনার পেশা। তবে এখন শুধু ভালো লিখতে জানা যথেষ্ট নয়—এআই ও ডিজিটাল টুলের ব্যবহার সাংবাদিকতার প্রতিটি ধাপে পরিবর্তন আনছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা শিক্ষক বলছেন: সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—সংবাদ লিখতে কি আগ্রহ আছে?
- 📌 গুগল ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও এআই সাক্ষরতা’ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় প্রকাশসহ ৭২ জন শিক্ষার্থী (এনএসইউতে)।
- 📌 ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল এনএসইউতে অনুষ্ঠিত ‘সাংবাদিকতা ও তথ্যের সততা’ প্রশিক্ষণে অংশ নেন ২০ শিক্ষার্থী। এআই-সৃষ্ট কনটেন্ট শনাক্ত ও ডিজিটাল যাচাই শেখানো হয়।
- 📌 এআই দীর্ঘ নথি বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সত্য যাচাই ও মানুষের গল্প সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা।
- 📌 এনএসইউর এমসিজে বিভাগ ভবিষ্যতে পাঠ্যক্রমে এআই ও ডিজিটাল মিডিয়ার গুরুত্ব বাড়াতে চায়।
📰 বিস্তারিত
১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হওয়া একজন শিক্ষক বলছেন, সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন: সংবাদ লিখতে কি আগ্রহ আছে? ক্যামেরার সামনে গল্প বলতে কি ইচ্ছে? অথবা মানুষের গোপন গল্প তুলে ধরতে কি উদ্বেগ? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সাংবাদিকতা হতে পারে আপনার পছন্দের পেশা। তবে এখন শুধু ভালো লিখতে জানা যথেষ্ট নয়—এআই ও ডিজিটাল টুলের ব্যবহার সাংবাদিকতার প্রতিটি ধাপে পরিবর্তন আনছে।
গুগলের উদ্যোগে ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় ‘তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও এআই সাক্ষরতা’ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জয় প্রকাশসহ ৭২ জন শিক্ষার্থী (এনএসইউতে)। পাঁচটি মডিউলে সাজানো প্রশিক্ষণে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সাংবাদিকতায় আধুনিক ডিজিটাল টুল ব্যবহারের কৌশল শেখানো হয়।
গত ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল এনএসইউতে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাংবাদিকতা ও তথ্যের সততা’ প্রশিক্ষণ। বেসরকারি সংস্থা ডিজিটালি রাইট পরিচালিত এই প্রশিক্ষণে অংশীদার ছিলেন বাংলাদেশে নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের দূতাবাস। প্রশিক্ষণে শেখানো হয় ভুয়া তথ্য চেনার কৌশল, ফ্যাক্ট চেকিং ও ডিজিটাল যাচাই। শেষ দিনের বড় অংশে এআই নিয়ে আলোচনা করা হয়—এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট কীভাবে মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে, কীভাবে যাচাই করতে হয় ছবি ও ভিডিও, এমনকি বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে এআই-সৃষ্ট বা বিকৃত কনটেন্ট কীভাবে শনাক্ত করা যায়।
এআই দীর্ঘ নথি থেকে তথ্য খুঁজে দিতে পারে, সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি সাজাতে পারে, উপাত্ত বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু কোন প্রশ্নটি করা দরকার, কোন তথ্যটি জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ, কোন সূত্রকে বিশ্বাস করা যায় কিংবা একজন মানুষের গল্প কীভাবে সংবেদনশীলভাবে বলা উচিত—এসবের জন্য প্রয়োজন সাংবাদিকের বিচারবোধ। তাই সাংবাদিকতা পড়তে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে এআই, তথ্য যাচাই ও ডিজিটাল সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ আছে কি না, তা খোঁজ নেওয়া উচিত।
"এআই ব্যবহার করে সাংবাদিকতা করলেই সেই গণমাধ্যমের রাজস্ব আয় বাড়বে, এমন কিন্তু না। তাই এআইয়ের যুগে প্রশ্নটি ‘সাংবাদিকতা থাকবে কি না’ নয়। বরং প্রশ্ন হলো আপনি কি এমন সাংবাদিক হয়ে উঠতে পারবেন, যিনি প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবেন, কিন্তু সত্য যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে দেবেন না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাংবাদিকতা শিক্ষক, জয় প্রকাশ, শেখিং লি (সাংহাই জিয়াটং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ জন শিক্ষার্থী (এনএসইউতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ), ২০ জন শিক্ষার্থী (সাংবাদিকতা ও তথ্যের সততা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ), ১৯-২১ এপ্রিল (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!