📌 ১৮৭১-১৯৫৩ সালের আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ৬০ বছরে সংগ্রহ করেছিলেন মধ্যযুগের ৭৭টি আলাওল রচিত পুঁথি ও বহু অজ্ঞাত কবি-কাব্যের পাণ্ডুলিপি। তাঁর গবেষণায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের মানচিত্র পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠেছে
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ইতিহাসের অন্যতম অগ্রগণ্য গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) তাঁর জীবদ্দশায়ই বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগচর্চার প্রবাদপুরুষ হিসেবে স্বীকৃত হন। তাঁর নিরলস সাধনায় সংগৃহীত পুঁথি ও গবেষণাপত্রের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয়েছে বহু অজ্ঞাতপূর্ব কবি ও কাব্যের অস্তিত্ব। ২০০৫ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি লেখা এখন অনলাইনে পাঠকদের জন্য উপলব্ধ হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬০ বছরের সাধনায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সংগ্রহ করেছিলেন মধ্যযুগের ৭৭টি আলাওল রচিত পুঁথি, যার মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মাবতী’, ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল’, ‘সেকান্দরনামা’ ও ‘সপ্তপয়কর’
- 📌 তাঁর সম্পাদিত ও প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নরোত্তম ঠাকুরের ‘রাধিকার মানভঙ্গ’ (১৩০৮), কবি বল্লভের ‘সত্যনারায়ণের পুথি’ (১৩২২), দ্বিজ মাধবের ‘গঙ্গামঙ্গল’ (১৩২৩) ও শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’ (১৩২৪)
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পুঁথি পরিচিতির পরিশিষ্টে তাঁর ৪১২টি প্রবন্ধের তালিকা পাওয়া যায়, আর বাংলা একাডেমির ‘সাহিত্যবিশারদ রচনাবলী’-র প্রথম খণ্ডে ১৯টি অতিরিক্ত রচনার উল্লেখ রয়েছে
- 📌 চট্টগ্রামের ইতিহাস, ভাষা ও সাংস্কৃতিক গবেষণায় তাঁর ‘ইসলামাবাদ’ গ্রন্থ বিশেষ উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি ‘চাটিগাঁও’ নামের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রথম গ্রহণযোগ্য তথ্য প্রদান করেন
- 📌 সাহিত্যবিশারদ শুধু পুঁথি সংগ্রাহক ছিলেন না, তাঁর অনুসন্ধান ছিল বহুমুখী—স্বদেশ, সমকালীন সমাজ, ভাষা, লোকসংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রত্নকথা নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন
📰 বিস্তারিত
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তাঁর জীবনকালে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সংগৃহীত পুঁথি ও গবেষণাপত্রের মাধ্যমে বহু অজ্ঞাত কবি ও কাব্যের অস্তিত্ব উন্মোচিত হয়। তাঁর সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে নরোত্তম ঠাকুরের ‘রাধিকার মানভঙ্গ’ (১৩০৮), কবি বল্লভের ‘সত্যনারায়ণের পুথি’ (১৩২২), দ্বিজ মাধবের ‘গঙ্গামঙ্গল’ (১৩২৩) ও শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’ (১৩২৪) সহ বহু প্রাচীন পুঁথি। এছাড়া তিনি আলাওল রচিত চারটি কাব্যের মোট ৭৭টি পুঁথি সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মাবতী’, ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল’, ‘সেকান্দরনামা’ ও ‘সপ্তপয়কর’।
সাহিত্যবিশারদের গবেষণার বিস্তৃতি ছিল বহুমুখী। তিনি চট্টগ্রামের ইতিহাস, ভাষা ও সাংস্কৃতিক গবেষণায় ‘ইসলামাবাদ’ গ্রন্থে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। গ্রন্থে তিনি ‘চাটিগাঁও’ নামের উৎপত্তি সম্পর্কে লিখেছেন যে, ১২ জন আউলিয়া চট্টগ্রামে উপনীত হয়ে একটি আলোকবর্তিকা স্থাপন করেন, যার আলোতে স্থানটি মানববাসযোগ্য হয়। এছাড়া তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ের বিবরণ, তীর্থস্থানের বর্ণনা ও পর্তুগিজ, চীন ও আরবীয় বণিকদের ইতিহাসও বর্ণনা করেছেন।
সাহিত্যবিশারদের মৃত্যুর পর তাঁর রচনাবলী ‘আবুল আহসান চৌধুরী’ সম্পাদনায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। তাঁর গবেষণায় বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ইতিহাসের মানচিত্র পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠেছে। তাঁর নিরলস সাধনা ও জ্ঞানতাপসতা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরণীয় অবদান রেখেছে।
"প্রবাদ আছে যে মুসলমান কর্তৃক গৌড় বিজয়ের কিছুকাল পরে ১২ জন আউলিয়া চট্টগ্রামে উপনীত হন। তাহারা পরীগণকে দূরীভূত করিবার জন্য একটি আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত করে উচ্চস্থানে স্থাপন করিলেন। কথিত আছে, ঐ বর্তিকার আলোকরশ্মি যতদূর পর্যন্ত ব্যাপ্ত হইয়াছিল, অপদেবতাগণ তথায় তিষ্ঠিতে না পারিয়া তথা হইতে পলায়ন করে। চট্টগ্রামে ‘চাটি’ অর্থ ‘আলোকবর্তিকা’। একটি চাটির সাহায্যে এই স্থানে সর্বপ্রথম মানব-বাসোপযোগী হইয়াছিল বলিয়া ইহার নাম ‘চাটিগাঁও’ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৭টি পুঁথি, ৪১২টি প্রবন্ধ, ১৯টি অতিরিক্ত রচনা, ৬০ বছর সাধনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!