📌 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ২০০ বছরের বাঙালি চিন্তকদের ৭৫ হাজার পৃষ্ঠার ২০৯ খণ্ডে সংকলিত ‘বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ’ প্রকাশ করেছে। ঢাকার শিক্ষকদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ২০০ বছরের বাঙালি চিন্তার ২০৯ খণ্ডে সংরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক সংকলন প্রকাশ করেছে। ‘বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ’ নামে এই গ্রন্থমালায় ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, নারী ও শিক্ষা সহ ১৬টি বিষয়ে বাঙালি চিন্তকদের নির্বাচিত রচনা সংকলিত হয়েছে। প্রায় ৭৫ হাজার পৃষ্ঠার এই সংকলনটি বাঙালি মননভান্ডারকে আধুনিক যুগে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ২০৯ খণ্ডে ২০০ বছরের বাঙালি চিন্তার সংকলন প্রকাশ করেছে, যা ৭৫ হাজার পৃষ্ঠার বড় প্রকল্প
- 📌 সংকলনটি ১৬টি বিষয়ে (ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, নারী, শিক্ষা ইত্যাদি) বাঙালি চিন্তকদের রচনা সংকলিত
- 📌 প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সম্পাদনা পরিষদে দেশের অভিজ্ঞ গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন
- 📌 ঢাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অনুষ্ঠিত আলোচনা সেমিনারে ১৬০টি বিদ্যালয়ের ২০০ জন শিক্ষক অংশ নিয়েছেন
- 📌 মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বইমেলার উদ্বোধন করেন
- 📌 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ১৮০৩ সাল থেকে বাঙালি চিন্তার সমৃদ্ধি ঘটেছে
- 📌 প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক কবি সাজ্জাদ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে বাঙালির চিন্তার নবায়ন করে
- 📌 শিক্ষা সংস্কার ও বাঙালির শিক্ষাচিন্তার মূল পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছেন শোয়াইব জিবরান
- 📌 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের খাদিজা হালিম বলেছেন, এই সংকলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ’ একটি ঐতিহাসিক প্রকল্প। এই সংকলনটি ২০৯ খণ্ডে বিভক্ত, যেখানে ১৬টি বিষয়ে বাঙালি চিন্তকদের নির্বাচিত রচনা সংকলিত হয়েছে। সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০৩ সাল থেকে বাঙালি চিন্তার সমৃদ্ধি ও বিকাশের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অনুষ্ঠিত আলোচনা সেমিনারে এই সংকলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী ১৬০টি বিদ্যালয়ের ২০০ জন শিক্ষক এই প্রকল্পের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ডিজিটাল যুগে দেশীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিকড় ও চিন্তাধারা জানার জন্য বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ভিডিও বার্তায় বলেন, ১৮০৩ সালে রাজা রামমোহন রায়ের লেখা থেকে শুরু করে বাঙালি চিন্তার বিকাশ ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, উনিশ শতক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাঙালির জীবনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি চিন্তার জগতেও ব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটেছে।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক কবি সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘বাঙালির চিন্তার সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেই চিন্তার নবায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’ তিনি বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষার মর্যাদা ও চিন্তাসম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব বাংলাদেশের উপর ন্যস্ত বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষা সংস্কার ও বাঙালির শিক্ষাচিন্তার মূল পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছেন শোয়াইব জিবরান। তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে বাঙালির শিক্ষাচিন্তার মূল ও আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেমিনারের শেষ পর্যায়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের খাদিজা হালিম বলেন, এই সংকলন কেবল বইয়ের সমাহার নয়, বরং বাঙালির বৌদ্ধিক অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মাণের দিকনির্দেশনা।
"বাঙালির চিন্তার সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেই চিন্তার নবায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।"
"বাঙালির বৌদ্ধিক অস্তিত্ব, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এই সংকলন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, অধ্যাপক খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, কবি সাজ্জাদ শরিফ, শোয়াইব জিবরান, খাদিজা হালিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০৯ খণ্ড, ৭৫ হাজার পৃষ্ঠা, ১৬টি বিষয়, ১৬০টি বিদ্যালয়, ২০০ জন শিক্ষক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!