📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বাল্যবিবাহের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় নিজে ইউএনওর কাছে গিয়ে বিয়ে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ১৫ বছর বয়সী একটি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং পরিবারও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বাল্যবিবাহের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় নিজের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নিজে ইউএনওর দ্বারস্থ হয়েছে ১৫ বছর বয়সী একটি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পেরে সকালে থানায় গিয়ে অভিযোগ করার পর তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে নিজের বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান ওই শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তিনি পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে পুলিশ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বাল্যবিবাহের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় নিজে ইউএনওর কাছে গিয়ে বিয়ে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ১৫ বছর বয়সী একটি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী
- 📌 শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘আমি নিজেই আমার বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য ইউএনওর কাছে গেছি। আমি লেখাপড়া করে পুলিশ হতে চাই’
- 📌 শিক্ষার্থীর মা বলেছেন, ‘আমি তাকে বিয়ে দেব না। তার ইচ্ছে লেখাপড়া করে পুলিশ হওয়া। আমি তাকে সেটা হতে সহযোগিতা করব’
- 📌 শিক্ষার্থীর পরিবার খুব দরিদ্র, তার মা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে এবং ধার-দেনা করে সংসার চালান
- 📌 ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। তাঁরা মেয়েটির বিয়ে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন’
- 📌 উপজেলা প্রশাসন মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বই, ব্যাগ, পোশাকসহ অর্থ সহায়তা দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
১৫ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী নিজের বাল্যবিবাহের বিষয়টি নিজেই ইউএনওর কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই আমার বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য ইউএনওর কাছে গেছি। আমি লেখাপড়া করে পুলিশ হতে চাই। সে জন্য সাহস করেই আমি ইউএনও স্যারের কাছে গেছি।’ শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘আমার স্বামী সাত বছর আগে মারা গেছে। অভাবের সংসারে পরের বাড়িতে কাজকর্ম করে সংসার চালিয়ে আরও তিনটি মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এটা ছোট মেয়ে। তার বিয়েটি দিয়ে ঝামেলা মেটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর তাকে বিয়ে দেব না। তার ইচ্ছে লেখাপড়া করে পুলিশ হওয়া। আমি তাকে সেটা হতে সহযোগিতা করব।’
শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী বলেন, ‘ইউএনও স্যার আমাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে মেয়েটি আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, জানতে চান। পরে সেখানে গিয়ে আমি মেয়েটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাই। মেয়েটির বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তার মা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে এবং ধার-দেনা করে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে হয়তো মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন আর তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে পরিবার জানিয়েছে।’
শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির পরিবার খুব দরিদ্র। সে ছাড়া তার আরও তিনটি বোন আছে। কোনো ভাই নেই। অভাব-অনটনের কারণেই মেয়েটির মা তার বিয়ে দিতে চেয়েছিল। এখন তার মা মেয়েটির বিয়ে দেবে না বলেছে। তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে তার মা তাকে লেখাপড়া করাবে বলে আমাদের কথা দিয়েছে।’
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটি প্রথমে শিবগঞ্জ থানায় গিয়ে জানায়, তার পরিবার তাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে। পরে থানা থেকে তাকে আমার কাছে পাঠানো হয়। সে আমার অফিসে এসে জানায়, সে বাল্যবিবাহ করতে চায় না। পড়াশোনা করে পুলিশ হতে চায়। এরপর মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অফিসে ডেকে আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। তাঁরা এখনই মেয়েটির বিয়ে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল বলেন, ‘মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বই, ব্যাগ, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মেয়েটি যাতে পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসন তার পাশে থাকবে।’
"আমি নিজেই আমার বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য ইউএনওর কাছে গেছি। আমি লেখাপড়া করে পুলিশ হতে চাই। সে জন্য সাহস করেই আমি ইউএনও স্যারের কাছে গেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শিবগঞ্জ উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ১৫ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, মাজহারুল ইসলাম (ইউএনও), রবিউল ইসলাম (চেয়ারম্যান), হযরত আলী (প্রধান শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর বয়স, ৩টি বোন, সাত বছর আগে (মা স্বামীর মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!