📌 ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহের সিটি কলেজিয়েট স্কুলে বর্তমানে মাত্র ১২৫ জন নিজস্ব শিক্ষার্থী থাকলেও নিবন্ধনে ৩৮৮ জন দেখানো হচ্ছে। শিক্ষকরা অনুমোদনবিহীন শিক্ষার্থীদের প্রক্সি হিসেবে দেখিয়ে এমপিও টিকিয়ে রাখছেন
১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহের সিটি কলেজিয়েট স্কুল ১৪৩ বছরের ইতিহাসের পরেও বর্তমানে প্রক্সি শিক্ষার্থী নিয়ে টিকে আছে। শিক্ষকদের অনুমোদনবিহীন শিক্ষার্থীদের কাগজপত্রে নিজেদের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে এমপিও টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের অপারগতা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে বিদ্যালয়টি দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের সিটি কলেজিয়েট স্কুলে বর্তমানে মাত্র ১২৫ জন নিজস্ব শিক্ষার্থী থাকলেও নিবন্ধনে ৩৮৮ জন দেখানো হচ্ছে
- 📌 শিক্ষকরা অনুমোদনবিহীন শিক্ষার্থীদের প্রক্সি হিসেবে দেখিয়ে এমপিও টিকিয়ে রাখছেন
- 📌 ৩, ৭ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তে দেখা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ২১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন
- 📌 দশম শ্রেণিতে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষায় ৯৮ জন অংশগ্রহণ করেছে
- 📌 শিক্ষকদের মতে, কর্মজীবী পরিবারের অভিভাবকদের অসচেতনতা শিক্ষার্থী সংখ্যা কমাতে দায়ী
📰 বিস্তারিত
১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহের সিটি কলেজিয়েট স্কুলে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা খুবই কম। বিদ্যালয়ের এমপিও টিকিয়ে রাখতে শিক্ষকরা অনুমোদনবিহীন শিক্ষার্থীদের কাগজপত্রে নিজেদের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে বেতন তুলছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৫ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ৬ জন নিয়মিত কর্মচারী এবং ১ জন খণ্ডকালীন কর্মচারী কর্মরত আছেন।
৩, ৭ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম। ৩ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৫ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১৫ জন, অষ্টম শ্রেণিতে মাত্র ৫ জন, নবম শ্রেণিতে ৬ জন এবং দশম শ্রেণিতে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর দশম শ্রেণিতে ৬ জন, নবম শ্রেণিতে ৯ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৬ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম অনেক সহপাঠী পাব। কিন্তু এসে দেখি ক্লাসে শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। আমাদের ক্লাসে মোট ১২ জন আছে। আমরা চাই স্কুলে আরও শিক্ষার্থী বাড়ুক; অল্প কয়েকজন থাকায় কোনো প্রতিযোগিতা হয় না।’
বিজ্ঞানের শিক্ষক শামছুন্নাহার বেগম বলেন, ‘হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে আমাদের কোনো সংকট নেই, ল্যাব যথেষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে কম শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস নেওয়াটা মনস্তাত্ত্বিকভাবে কষ্টদায়ক। এই বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কর্মজীবী পরিবারের এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে উপস্থিতি কম।’
"হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে আমাদের সংকট নেই, ল্যাব যথেষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে কম শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস নেওয়াটা মনস্তাত্ত্বিকভাবে কষ্টদায়ক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ, রামবাবু রোডে অবস্থিত সিটি কলেজিয়েট স্কুল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শামছুন্নাহার বেগম (বিজ্ঞানের শিক্ষক), মাহমুদুল হাসান (অষ্টম শ্রেণির ছাত্র), মো. আবদুল মান্নান (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৩ বছর (স্কুলের বয়স), ১২৫ জন (নিজস্ব শিক্ষার্থী), ৩৮৮ জন (নিবন্ধিত শিক্ষার্থী), ৯৮ জন (পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী), ৪১ জন (পাসকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!