📌 বিকাশ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে ১২ বছরের বইপড়া কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রচেষ্টায় ৩ হাজার প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩২ লাখ শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ও বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা কামাল কাদীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন
বাংলাদেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বইপড়ার প্রচার ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগ। এই যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্ক্রিন-টাইমের প্রাধান্য সত্ত্বেও, ১২ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় এই প্রতিষ্ঠান দুটি দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে সফল হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২ বছরের যৌথ প্রচেষ্টায়** বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের মাধ্যমে ৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩২ লাখ শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে।
- 📌 **শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন** বিশেষ প্রীতি সম্মিলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
- 📌 **বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা কামাল কাদীর** ভিডিও বার্তায় বলেছেন, শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একটি মহৎ সিদ্ধান্ত।
- 📌 **বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ** বলেছেন, এই প্রচেষ্টায় বিনিয়োগ করা অর্থের ফলাফল জাতিকে লাভবান করেছে।
- 📌 **১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের** জন্য নির্বাচিত বইগুলো মানবিক মূল্যবোধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও দর্শনের উপর কেন্দ্রীভূত।
- 📌 **রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুপ্রেরণায়** অনুষ্ঠানে ‘অমলের পৃথিবী’ নাটিকা পরিবেশিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের পড়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ১২ বছরের বইপড়া কর্মসূচি সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রীতি সম্মিলনে উদযাপিত হয়। এই উদ্যোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি’ শব্দটি আজকাল ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের এই প্রচেষ্টা দেখিয়েছে যে, বইয়ের মাধ্যমে জাতিকে আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।’
বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর ভিডিও বার্তায় বলেন, “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে কাজ করার একটা প্রবল আকর্ষণ ছিল আমার মাঝে। সবকিছু লাভের দিকে তাকিয়ে থাকলে করা ঠিক নয়। আমরা দেখেছি যে, এই কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাজ করছে। তাই আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, “কিশোর বয়সে মননশীলতার বিকাশ সবচেয়ে দ্রুত হয়। এই সময় মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ বইগুলোর সঙ্গে পরিচিতি তাদের ভবিষ্যত চিন্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমরা বিকাশের কাছ থেকে ৪ লাখ বই পেয়েছি, যা দেশের ৩২ লাখ ছেলেমেয়ে পড়েছে। বিকাশ যদি এই অর্থ অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করত, তাহলে হয়তো একটু বেশি লাভবান হতো। কিন্তু এখানে করেছে। এতে বিকাশ লাভবান হয়েছে কি না, জানি না; কিন্তু জাতি লাভবান হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের পড়া প্রিয় বইগুলোর নাম তালিকাবদ্ধ করে বিশাল একটি খাতায় লিখেছেন। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে আমরা অনেক বই পাচ্ছি যা অন্যান্য লাইব্রেরিতে পাওয়া যায় না। এসব বই আমাদের জ্ঞান বাড়ায় এবং আমরা উপকৃত হই।”
"যখন একটি বইয়ের পৃষ্ঠা পড়ি, তখন মনে হয়, দেখি তো সামনে আর কী আছে?" — শিক্ষার্থীদের উক্তি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, কামাল কাদীর, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
- 📌 শিক্ষার্থীদের সংখ্যা: ৩২ লাখ
- 📌 বিতরণ করা বই: ৪ লাখ
- 📌 অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান: ৩ হাজার
- 📌 বয়স পরিসর: ১১ থেকে ১৮ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!