📌 যোগাযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যশোরে বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি। তানভীরুল ইসলাম সোহান বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাসের অভাব, নদী নাব্যতা সমস্যা ও অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবে শিল্প বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। নওয়াপাড়া বন্দর, যশোর বিমানবন্দর, কনটেইনার টার্মিনাল ও ইপিজেডের অগ্রগতি বিলম্বিত হচ্ছে
যোগাযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যশোরে বড় শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এই প্রাচীন শহরের অবকাঠামোগত সম্ভাবনা ও ভৌগোলিক সুবিধা সত্ত্বেও ভারী শিল্পের বিনিয়োগকারীরা এখানে আকৃষ্ট হননি। তানভীরুল ইসলাম সোহান বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাব, নদী নাব্যতা সমস্যা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবে যশোরের শিল্প বিকাশ বিলম্বিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **যোগাযোগ সুবিধা সত্ত্বেও** যশোরে বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি — নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাসের অভাব দায়ী
- 📌 **নওয়াপাড়া নদীবন্দর** কার্যকর করতে হলে ভৈরব নদের নিয়মিত ড্রেজিং ও আধুনিক ক্রেন ব্যবস্থা প্রয়োজন
- 📌 **যশোর বিমানবন্দর** আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা গেলে কৃষি ও পচনশীল পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সম্ভব
- 📌 **প্রস্তাবিত কনটেইনার টার্মিনাল** বিলম্বিত — রেলওয়ে বাংলাদেশের পরিদর্শনের পর আর অগ্রগতি হয়নি
- 📌 **অটোমোবাইল পার্ক** ও **নতুন ইপিজেড** প্রকল্পে সরকারি অনুমোদন ও তহবিলের অভাব
- 📌 **পুরোনো বিসিক শিল্পনগর** পুনর্বাসনে সহজ শর্তে ঋণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি
📰 বিস্তারিত
তানভীরুল ইসলাম সোহান বলেন, যশোরের অবকাঠামোগত সম্ভাবনা সত্ত্বেও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ অপরিহার্য। কিন্তু এখানে সেই নিশ্চয়তা নেই। ফলে ভারী শিল্পের বিনিয়োগকারীরা এখানে আকৃষ্ট হননি। তিনি উল্লেখ করেন, নওয়াপাড়া নদীবন্দরকে কার্যকর করতে ভৈরব নদের নাব্যতাসংকট ও অবকাঠামোগত আধুনিকায়নের অভাব দায়ী। বন্দরসংলগ্ন একটি সেতুর পিলারের গোড়ায় বালু ও পলি জমায় এ নদের নাব্যতা কমেছে। ফলে মোংলা থেকে নওয়াপাড়ায় পণ্যবাহী কার্গো আসতে পারছে না।
তানভীরুল ইসলাম সোহান দাবি করেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে নিয়মিত ড্রেজিং ও আধুনিক ক্রেন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের খরচ ৪০-৫০ শতাংশ কমবে। তিনি বলেন, যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা দরকার। এ অঞ্চলে প্রচুর শাকসবজি, ফুল ও পোনা মাছ উৎপাদিত হয়। কার্গো সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক হাব হিসেবে বিমানবন্দরটি গড়ে তোলা গেলে কৃষি ও পচনশীল পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হবে।
তানভীরুল ইসলাম সোহান জানান, তিনি যশোরের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নির্বাচনী জনসভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন। তবে সরকারের সঙ্গে মৌখিক আলোচনার পরও কোনো concrete উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যশোরের রূপদিয়ায় সমন্বিত কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। রেলওয়ে বাংলাদেশের মহাপরিচালক একবার স্থানটি পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। টার্মিনালটি হলে ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনে বড় পরিবর্তন আসবে। বেনাপোলে জায়গার সংকট থাকায় যশোরে টার্মিনাল হলে খুলনা ও মোংলাও সুবিধা পাবে।
তানভীরুল ইসলাম সোহান বলেন, সুতিঘাটায় অটোমোবাইল পার্কের জন্য জমি চিহ্নিত হলেও সরকারি অনুমোদন, তহবিল ও অবকাঠামোর অভাবে প্রকল্পটি থমকে যায়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন ও একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে যশোরের নতুন ইপিজেডের কাজ এগোচ্ছে, যেখানে স্থানীয় কাঁচামাল ও সস্তা শ্রম কাজে লাগবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো বিসিক শিল্পনগর পুনর্বাসনে সহজ শর্তে ঋণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি উঠেছে। গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন করতে হয়, ফলে খরচ বাড়ে। বিসিকের ব্যবসায়ীরা বন্ড সুবিধাও পান না। উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে অনেক উদ্যোক্তা দেউলিয়া হয়েছেন। তাই রুগ্ণ শিল্প পুনর্বাসনে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও খারাপ; বৃষ্টিতে পানি জমে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল। বরাদ্দ বাড়িয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।
"নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাব, নদী নাব্যতা সমস্যা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবে যশোরের শিল্প বিকাশ বিলম্বিত হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর, নওয়াপাড়া নদীবন্দর, যশোর বিমানবন্দর, রূপদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, সুতিঘাট অটোমোবাইল পার্ক, বিসিক শিল্পনগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তানভীরুল ইসলাম সোহান, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০-৫০ শতাংশ (পণ্য পরিবহন খরচ কমবে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!