📌 বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে আসার পাশাপাশি বিনিয়োগ সংকোচন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে আসার পাশাপাশি বিনিয়োগের সংকোচন, দারিদ্র্যের বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার চাপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৫.৮ শতাংশ
- 📌 বিনিয়োগ সংকোচনের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ ০.৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ০.৭ শতাংশ কমেছে
- 📌 পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি ৪.৮ শতাংশ কমেছে এবং শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে
- 📌 গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কর্মঘণ্টা কমিয়ে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে অনেক প্রতিষ্ঠান
- 📌 নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ২০২২ সালের ৪২.৮ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৩৮.৪ শতাংশে নেমেছে
- 📌 খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা কম আয়ের শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরিকে ঋণাত্মক করেছে
- 📌 সামাজিক সুরক্ষা ও জ্বালানি সহায়তা বাড়লেও দরিদ্রদের কাছে পৌঁছায় না উল্লেখযোগ্য অংশ
- 📌 বিশ্বব্যাংক সংস্কারের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানিনিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করা
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। করোনা মহামারির পর কোনো অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি এতটাই কমে এসেছে ২.২ শতাংশে।
বিনিয়োগের সংকোচন প্রবৃদ্ধি কমার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ০.৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ০.৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি ৪.৮ শতাংশ কমেছে। উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নও ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে নেমেছে। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন সক্ষমতার দুর্বলতা এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের সতর্কতার কারণে উন্নয়ন ব্যয় কমেছে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা সক্ষমতার নিচে উৎপাদন করছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়েছে, উৎপাদন বন্ধ রেখেছে বা কর্মী ছাঁটাই করেছে। শিল্প ও কর্মসংস্থানে চাপের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
গ্যাসের স্বয়ংসম্পূর্ণতা হারিয়ে ফেলার কারণে বাংলাদেশ এখন মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা মূল্যস্ফীতিকে উঁচু পর্যায়ে রেখেছে। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬.৭ শতাংশ বেড়েছে। কম আয়ের শ্রমিকদের মজুরিও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি, ফলে আগস্টে তাদের প্রকৃত মজুরি ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।
"মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৪ শতাংশ (প্রবৃদ্ধি), ০.৫ শতাংশ (বেসরকারি বিনিয়োগ কমে), ০.৭ শতাংশ (সরকারি বিনিয়োগ কমে), ৪.৮ শতাংশ (রপ্তানি কমে), ১৬.৭ শতাংশ (বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!