📌 বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ৬ কোটি নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কোভিড, মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগের দুর্বলতা এই ঝুঁকির মূল কারণ। গত চার বছরে দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে ৮০ লাখেরও বেশি
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ৬ কোটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার দরিদ্র শ্রেণিতে পতিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত চার বছরে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে গত এক বছরে ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬ কোটি ২০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্তের** ঝুঁকি: বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, তারা দরিদ্র শ্রেণিতে পতিত হতে পারে
- 📌 **৮০ লাখেরও বেশি দরিদ্রের সংখ্যা** বেড়েছে গত চার বছরে, এর মধ্যে ২১ লাখ নতুন দরিদ্র
- 📌 **৬টি মূল কারণ**: কোভিড, জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগের দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর ব্যবস্থার দুর্বলতা
- 📌 **জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪%**: বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে
- 📌 **২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২২.৫%**: বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২২.৫% হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকার মগবাজার এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেছেন, জীবনযাত্রার খরচের সাথে আয়ের ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, “আর পারা যাচ্ছে না। বাজারে শাক-সবজি থেকে শুরু করে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাসভাড়া, ঘরভাড়া—সবকিছু যেভাবে বাড়ছে, তাতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১%, কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৪.২২% হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩.৪% হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাংলাদেশের পূর্বের অগ্রগতি বর্তমানে বিপন্ন। ২০২০ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনে ‘বিশ্বের মডেল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২২.৫% হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, যদি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন না আসে, তাহলে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।
"সবকিছুর খরচ এত বেড়েছে যে বেতনের টাকা দিয়ে মাস পার হচ্ছে না। আগের কিছু সঞ্চয় ছিল, সেটাও এখন প্রায় শেষের দিকে। এভাবে যদি জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে সংসার কীভাবে চালাবো, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খবর কীভাবে দেবো, সেটাই ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছি না,"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মগবাজার), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আতিকুর রহমান (বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ কোটি ২০ লাখ (নিম্ন মধ্যবিত্ত ঝুঁকিতে), ৮০ লাখ (দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি), ২২.৫% (বর্তমান দারিদ্র্যের হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!