📌 উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এনবিআরের তদন্তে জানা যায়, বন্ড ও এফওসি সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল বিক্রি করে এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে অনিয়ম করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে
উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকির অভিযোগে এনবিআর তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এই তথ্য রোববার সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি**: উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকির অভিযোগে এনবিআর তদন্ত শুরু করেছে। বন্ড ও এফওসি সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল বিক্রি করে এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
- 📌 **৩৭ টন কাঁচামালের শুল্ক-কর ফাঁকি**: চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা ৩৭ টন কাঁচামালের মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা, কিন্তু শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। কাঁচামালটি উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়নি, বরং স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
- 📌 **৫২৫টি যন্ত্রপাতির বিক্রি**: ৫২৫টি মেশিনের আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
- 📌 **তদন্ত চলমান**: এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে এবং ২০১৪ সাল থেকে কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলমান।
📰 বিস্তারিত
রোববার এনবিআরের আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকির অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছে এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, চীন ও ভারত থেকে বন্ড ও এফওসি সুবিধায় তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৩৭ টন কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছিল। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা, কিন্তু শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা পণ্যগুলি সাধারণত নির্ধারিত শর্তে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহারের সুযোগ পায়। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বন্ড রেজিস্টার পরিদর্শনের স্থানে এসব পণ্য পাননি। এছাড়া, আমদানি-রপ্তানির তথ্য দিতে না পারা এবং কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ার মতো অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ৫২৫টি মেশিনের আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ সম্পর্কে জানা যাবে।
"২০১৪ সাল থেকে কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলমান। উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (এনবিআর রাজস্ব ভবন, আগারগাঁও)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজভী আহম্মেদ (কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
- 📍 দেশ: চীন, ভারত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ কোটি টাকা (রাজস্ব ফাঁকি), ৩৭ টন (কাঁচামাল), ৫২৫টি (মেশিন), ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা (মেশিনের রাজস্ব ফাঁকি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!