📌 বাংলাদেশ সরকার নতুন ভ্যাট আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে ধারা ১৩৭ক জারি করে ভ্যাট বকেয়া পরিশোধের সুযোগ দিয়েছে। ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৪ মাসে ২% মাসিক সুদ পরিশোধ করে করদাতারা পুরোনো বকেয়া থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। তবে বাস্তবায়নে আইনি অস্পষ্টতা, মামলা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং করদাতাদের অজ্ঞতার কারণে এই সুযোগের কার্যকরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
বাংলাদেশ সরকারের নতুন ভ্যাট আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে করদাতাদের জন্য একটি ব্যবসাবান্ধব সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা দীর্ঘদিনের অনাদায়ি ভ্যাট বকেয়া মুক্তির পথ খুলতে পারে। নতুন ধারা ১৩৭ক অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ছয় মাসের মধ্যে করদাতারা ২৪ মাসে ২ শতাংশ মাসিক সুদ পরিশোধ করে পুরোনো বকেয়া কর থেকে চূড়ান্ত মুক্তি পেতে পারবেন। তবে বাস্তবে এই সুযোগের কার্যকরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কারণ আইনি বিধান থাকলেও বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা ও সহায়তা ব্যবস্থা অনুপস্থিত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ধারা ১৩৭ক অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ, ২৪ মাসে ২% মাসিক সুদে মুক্তি পাওয়ার বিধান রয়েছে।
- 📌 ৩ মাস সময় ফুরিয়ে গেছে — বাকি মাত্র তিন মাস, কিন্তু করদাতারা কীভাবে সুবিধা নেবেন তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।
- 📌 আদালতের মামলা — ভ্যাট আপিল কমিশনারেট, আপিল ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলো কীভাবে প্রত্যাহার হবে, তা স্পষ্ট নয়।
- 📌 স্থগিতাদেশ ও এডিআর মামলা — হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি চলমান মামলায় কর দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি লাগবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
- 📌 শুধু সুদ বকেয়া — মূল কর পরিশোধ হলেও শুধু সুদ বা অন্য আনুষঙ্গিক পাওনা বকেয়া থাকলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা পরিষ্কার নয়।
- 📌 নিরীক্ষা নোটিশ — চূড়ান্ত দাবিনামা না জারি হওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে সুবিধা নেবে, আইনে তা উল্লেখ নেই।
📰 বিস্তারিত
অর্থ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে নতুন ধারা ১৩৭ক জারি করে সরকার করদাতাদের জন্য একটি ব্যবসাবান্ধব সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই ধারা অনুযায়ী, করদাতারা ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা ভিত্তিক ২৪ মাসে ২ শতাংশ মাসিক সুদ পরিশোধ করে পুরোনো বকেয়া ভ্যাট থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। তবে বাস্তবে এই সুযোগের কার্যকরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কারণ আইনি বিধান থাকলেও বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা ও সহায়তা ব্যবস্থা অনুপস্থিত রয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও, বাস্তবে করদাতারা কীভাবে এই সুবিধা নেবেন তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আদালতের বিচারাধীন মামলা, স্থগিতাদেশ বা এডিআর মামলায় কর দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি লাগবে কি না, তা পরিষ্কার নয়। এছাড়াও, শুধু সুদ বকেয়া থাকলে মূল কর পরিশোধ হলেও তা কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা পরিষ্কার নয়। নিরীক্ষা নোটিশ দেওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও কীভাবে সুবিধা নেবে, আইনে তা উল্লেখ নেই।
এনবিআরকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, সহজ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশ করে করদাতাদের জানানো উচিত কখন, কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন। প্রতিটি ভ্যাট কমিশনারেটে ঝুলে থাকা পুরোনো ফাইল ও মামলাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা এবং এই সুবিধার কথা জানানো উচিত। এছাড়াও, প্রতিটি কমিশনারেটে বিশেষ সহায়তাকেন্দ্র বা হেল্প ডেস্ক চালু করা দরকার যাতে ব্যবসায়ীরা বকেয়া করের হিসাব মেলাতে কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন।
"৩১ ডিসেম্বরের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এনবিআর যদি স্পষ্ট পথ বাতলে দিয়ে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে, তবেই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটবে এবং সরকারের ঘরে জমা হবে হাজার কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভ্যাট কমিশনারেট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্নেহাশীষ বড়ুয়া (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ধারা ১৩৭ক, ১ জুলাই, ৩১ ডিসেম্বর, ২ শতাংশ, ২৪ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!