📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দামের বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতিকে ৩.৭ শতাংশে নিয়ে যায়। সেপ্টেম্বর মাসে এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টের ৩.৪ শতাংশের চেয়ে বেশি। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে জ্বালানির দামের বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে জ্বালানির দামের বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতিকে ৩.৭ শতাংশে নিয়ে যায়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে এক বছরে দেশটির মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টের ৩.৪ শতাংশের চেয়ে বেশি। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পেট্রলের দাম বেড়েছে। এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মূল্যস্ফীতির এই বেড়ে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটু অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার সেপ্টেম্বর মাসে এক বছরে ৩.৭ শতাংশে বেড়েছে, যা আগস্টের ৩.৪ শতাংশের চেয়ে বেশি
- 📌 জ্বালানির দামের বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ — ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন
- 📌 এক বছরে গাড়ির জ্বালানির দাম বেড়েছে ৩৪.২ শতাংশ, শুধু সেপ্টেম্বরে ৯.১ শতাংশ
- 📌 ফুয়েল অয়েলের দাম বেড়েছে ৭৪.২ শতাংশ, সামগ্রিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতির হার ২০.৪ শতাংশ
- 📌 খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার এক বছরে ২.৫ শতাংশে স্থিতিশীল, সেপ্টেম্বরে খাদ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ, বর্তমান হার ৩.৭ শতাংশ
- 📌 ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কের কারণে বাড়তি খরচের ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাগুলো বহন করছে
- 📌 গড় শুল্কের হার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়লে এক বছর পর ভোক্তা পণ্যের দাম প্রায় ০.২৫ শতাংশ বাড়ে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানির দামের বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির মোট বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি। এক বছরে গাড়ির জ্বালানির দাম বেড়েছে ৩৪.২ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির মোট বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে এবং চাহিদা অপরিবর্তিত থাকলে দাম বাড়তে পারে। অপরিশোধিত তেল পেট্রল ও ডিজেল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হওয়ায় তেলের দামের পরিবর্তন সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ের দামে প্রভাব ফেলে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে অধিকাংশ অতিরিক্ত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করলেও ট্রাম্পের বিকল্প হিসেবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, শুল্কের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়বে। তবে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের গবেষণায় দেখা গেছে, এই শুল্ক মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ হলে বিদেশি রপ্তানিকারকরা দাম কমিয়ে সেই খরচের অংশ বহন না করলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদেরই বাড়তি অর্থ দিতে হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গড় শুল্কের হার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়লে এক বছর পর ভোক্তা পণ্যের দাম প্রায় ০.২৫ শতাংশ বাড়ে।
মূল্যস্ফীতির বর্তমান হার ৩.৭ শতাংশ, যা ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় কম। কোভিড মহামারির সময় সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নসহ বিভিন্ন কারণে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে শুরু করে। পরে ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে যায়। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার একপর্যায়ে প্রায় ৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। মূল্যস্ফীতির এই বেড়ে যাওয়া অর্থনীতিতে সামান্য মূল্যস্ফীতিকে সাধারণত স্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাও এরই প্রতিফলন। মূল্যস্ফীতির হার অনেক কমে গেলে মানুষ ভবিষ্যতে আরও কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় কেনাকাটা পিছিয়ে দিতে পারে, যা চাহিদা কমিয়ে ব্যবসাগুলোকে মজুরি কমানোর মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।
"জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে এবং চাহিদা অপরিবর্তিত থাকলে দাম বাড়তে পারে। অপরিশোধিত তেল পেট্রল ও ডিজেল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হওয়ায় তেলের দামের পরিবর্তন সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ের দামে প্রভাব ফেলে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, নিউইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৭ শতাংশ (মূল্যস্ফীতির হার), ৩৪.২ শতাংশ (জ্বালানির দামের বেড়ে যাওয়া), ৭৪.২ শতাংশ (ফুয়েল অয়েলের দামের বেড়ে যাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!