📌 যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সই হওয়া এআরটি চুক্তির ফলে বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে বিপ্লব ঘটছে। প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণ, বিশেষত পেট্রোলিয়াম, তুলা ও ইস্পাত আমদানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি থেকে শুরু করে আমদানিকারকদের মন্তব্য পর্যন্ত বিস্তারিত জানুন
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সই হওয়া এআরটি (পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি) চুক্তির প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে দ্রুত দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর মধ্যে প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানি হয়েছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য, কিন্তু দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) তা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে। এইভাবে তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দ্বিগুণ আমদানি**: যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রথমার্ধে ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে প্রথম ত্রৈমাসিকে ছিল মাত্র ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
- 📌 **পেট্রোলিয়াম ও খনিজ জ্বালানি**: দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ব্যয় ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রথম ত্রৈমাসিকের ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের তুলনায় ৫.৬ গুণ বেশি।
- 📌 **বোয়িং উড়োজাহাজ চুক্তি**: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সাথে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে। প্রথম চুক্তিতে ১৪টি উড়োজাহাজের মূল্য ৩৭০ কোটি ডলার (৪৫ হাজার ৫১০ কোটি টাকা)।
- 📌 **শুল্ক বিতর্ক ও চুক্তি**: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর বাংলাদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি এআরটি চুক্তিতে সই করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের রায় বাতিল করলেও চুক্তি বাতিল হয়নি।
- 📌 **আমদানিকারকদের মন্তব্য**: সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের মান ও সরবরাহ নিশ্চয়তা আমদানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এআরটি চুক্তির ফলে বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের মূল্য ছিল ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এর মধ্যে প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানি হয়েছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য, কিন্তু দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) তা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে। এইভাবে তিন মাসে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।
দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও খনিজ জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যে। এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যা প্রথম ত্রৈমাসিকের ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এছাড়া তুলা (১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার), লোহা ও ইস্পাত (১০ কোটি ৪১ লাখ ডলার), খাদ্যশস্য (৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার) এবং সয়াবিন ও পশুখাদ্য (৭ কোটি ২৯ লাখ ডলার) আমদানি করা হয়েছে।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সাথে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে। প্রথম চুক্তিতে ১৪টি উড়োজাহাজের মূল্য ৩৭০ কোটি ডলার (৪৫ হাজার ৫১০ কোটি টাকা), যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়েছে, তবে এর আর্থিক বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর বাংলাদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি এআরটি চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল আমদানি করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৭০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার অঙ্গীকার করেছে।
"এটা তো হবারই কথা ছিল।… আগামীতে কী হবে, উড়োজাহাজ আমদানি শুরু হলে কী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আমিরুল হক (সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলার (প্রথমার্ধের আমদানি), ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলার (দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আমদানি), ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার (পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি), ৩৭০ কোটি ডলার (বোয়িং উড়োজাহাজ চুক্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!