📌 জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে, আগামী ১৫ বছরে ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীনতা ভোগবেন। প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, বর্তমান প্রযুক্তি ও জনসংখ্যার চাপের কারণে এই সংকট মোকাবিলায় সরকারগুলোকে সঠিক নীতি গ্রহণ করতে হবে। ইউএনডিপি দুটি নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য
বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে আগামী ১৫ বছরে প্রবেশ করতে যাওয়া ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীনতা ভোগবেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। এই বিপুল সংখ্যক তরুণদের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি তরুণের জন্যই কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইউএনডিপির প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রযুক্তিগত অবস্থা ও জনসংখ্যার চাপের কারণে এই সংকট মোকাবিলায় সরকারগুলোকে সঠিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীন: আগামী ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণ শিক্ষাজীবন শেষ করবেন, কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
- 📌 দুটি নতুন উদ্যোগ: ইউএনডিপি 'ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্সিলারেটর' ও 'জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি' নামে দুটি প্রকল্প শুরু করেছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য।
- 📌 বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ব্যাংক সহায়তা: এই উদ্যোগগুলোতে বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সহায়তা করছে।
- 📌 কৃষি ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনা: আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের পরও কৃষি, পর্যটন ও সেবামূলক খাতগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে।
- 📌 ৯.৫ শতাংশ ঋণ সুদ: গড় উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের মোট সরকারি আয়ের ৯.৫ শতাংশ ঋণ সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে, যা বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় অংশ নিতে বর্তমানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাইরে অবস্থান করা আলেকজান্ডার ডি ক্রু নিউইয়র্কের প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণ শিক্ষাজীবন শেষ করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি তরুণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে এবং বাকি ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীনতা ভোগবেন।
ডি ক্রু বলেন, এই বিপুল ব্যবধানের পেছনে মূলত বর্তমান প্রযুক্তিগত অবস্থা ও জনসংখ্যার প্রভাব রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি একা বদলাবে না, বরং সঠিক নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এটি সমাধান করতে হবে। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউএনডিপি দুটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রথম উদ্যোগটি হলো 'ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্সিলারেটর' যা সরকারগুলোকে তাদের বিনিয়োগ নীতি ও আইনি কাঠামো উন্নত করতে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। আর দ্বিতীয় উদ্যোগটি হলো 'জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি' যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করতে, নিয়োগকারীদের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে এবং বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করতে কাজ করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব প্রসঙ্গে ডি ক্রু জানান, যথাযথ শ্রমনীতির মাধ্যমে এই চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব এবং এআইয়ের প্রসারের পরও কৃষি, পর্যটন ও সেবামূলক খাতগুলোতে এখনও অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। এই উদ্যোগগুলোতে বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সহায়তা করছে, যার পাইলট প্রকল্প ইতিমধ্যে নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় শুরু হয়েছে।
ডি ক্রু আরও সতর্ক করেন যে, বর্তমানে অনেক উন্নয়নশীল দেশ উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, চরম ভাবাপন্ন এল নিনো এবং উচ্চ ঋণগ্রহণের ব্যয়ের মতো এক 'ত্রৈত ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে। ইউএনডিপির একটি নতুন প্রতিবেদন অনুসারে, গড় উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের মোট সরকারি আয়ের ৯.৫ শতাংশই কেবল ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে। এর ফলে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঘুরে দাঁড়ালেও এই স্থিতিশীলতা সব দেশের জন্য সমান নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
"এই পরিস্থিতি একা বদলাবে না, বরং সঠিক নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এটি সমাধান করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (প্রেস ব্রিফিং), নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন, ঘানা (পাইলট প্রকল্প)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেকজান্ডার ডি ক্রু (ইউএনডিপি প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ কোটি (কর্মসংস্থানহীন তরুণ), ১২০ কোটি (শিক্ষাজীবন শেষকারী তরুণ), ৪০ কোটি (কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন), ৯.৫ শতাংশ (সুদ পরিশোধে ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!