📌 বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগছে না। নীতি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে পর্যটনকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল ঢাকার কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই সমস্যা ও সমাধানের উপায় আলোচনা করেছেন।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগছে না। নীতি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এই খাতের বিকাশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পর্যটন খাতে বিনিয়োগ: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই সমস্যা ও সমাধানের উপায় আলোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেছেন, পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘদিনের মহাপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
- 📌 বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পর্যটন অনুবিভাগ) মো. আব্দুর রউফ বলেছেন, বাংলাদেশে পর্যটনের আকর্ষণ ও সম্ভাবনা অনেক থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবহন, নিরাপত্তা, আবাসন ও খাবারের মতো নানা ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে।
- 📌 আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেছেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সমন্বয় ও পরিকল্পনার ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
- 📌 বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু হাতে গোনা কয়েকটিই পর্যটন পণ্যে রূপ পেয়েছে।
- 📌 পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও প্রথম আলোর আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল জাতিসংঘের শ্রমবিষয়ক সংস্থা আইএলও বাংলাদেশ। বৈঠকে মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘদিনের মহাপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এবং স্থানীয় বিনিয়োগ আরও টেকসই করতে ব্যাংক খাত থেকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত বিধিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন এবং বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বাংলাদেশের পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত হিসেবে না দেখে শিল্প, সেবা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের আকর্ষণ ও সম্ভাবনা অনেক থাকলেও সেগুলোকে কার্যকর পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবহন, নিরাপত্তা, আবাসন, খাবারসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তিনি নীতিনির্ধারণ, কৌশল, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটনের বিকাশ হলে নারী, পুরুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি পর্যটন খাতের উন্নয়নে সমন্বয় ও পরিকল্পনার ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন। আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ও প্রচারে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া দূতাবাস পর্যায়ে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা ও বিমানবন্দরের সেবাও বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ম্যাক্স টুনন।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি পর্যটন পণ্যে রূপ পেয়েছে, বাকিগুলো এখনো পর্যটনসম্পদ হিসেবেই রয়েছে। তিনি পর্যটন খাতকে সরকারের অগ্রাধিকার না দেওয়ায় এ খাতে প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগ হয়নি বলে উল্লেখ করেন। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগও প্রত্যাশিতভাবে আসেনি। তিনি টেকসই পর্যটন উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ, গণপরিবহন, বর্জ্য নিষ্কাশন, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল সংযোগের উন্নয়নের দাবি তুলেছেন।
"টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পর্যটন খাতে বিনিয়োগ: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা"
পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, পর্যটন টেকসই করতে হলে পর্যটকদের কাছ থেকে পরিবেশ সংরক্ষণের খরচ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, কারওয়ান বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, মো. আব্দুর রউফ, ম্যাক্স টুনন, জাবেদ আহমেদ, মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!