📌 টিসিবি ডিজিটাল রূপান্তরকে ইতিবাচক বলে মনে করলেও, চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের লোকসানের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ। সংস্থাটি ৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় করলেও, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সঠিকভাবে পণ্য পৌঁছানোর জন্য নজরদারি দরকার বলে দাবি করা হয়েছে
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ডিজিটাল কার্ড প্রোগ্রামের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ বলেছেন, শুধু ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা যথেষ্ট নয়, এর কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি দাবি করেছেন, চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ বলেছেন, টিসিবির ডিজিটাল ব্যবস্থায় চাঁদাবাজি ও লোকসানের সম্ভাবনা রয়েছে।
- 📌 ৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় হলেও, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সঠিকভাবে পণ্য পৌঁছানোর নিশ্চয়তা নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- 📌 ৭৯ লাখ ৯০ হাজার প্রকৃত সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু ভুয়া আবেদন বাতিলের পরও সতর্কতা জরুরি।
- 📌 ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়ে টিসিবি, বিক্রয় রাজস্ব ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- 📌 স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সক্রিয় হয়েছে ৭৩ লাখ ৭ হাজার, কিন্তু কার্যকারিতা নিয়মিত পরিমাপের দাবি করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রধান অতিথি থাকা ‘ট্রেড উইথ টিসিবি’ অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিম্ন প্রবৃদ্ধির সময়ে টিসিবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে দরিদ্রতম মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছানোর নিশ্চয়তা নেই বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, টিসিবির কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে আরও পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে থাকা মানুষও অর্থনৈতিক ধাক্কায় দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন, তাদেরও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা দরকার।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ও অধ্যাপক বদরুন নেসা আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল কার্ড চালুর মাধ্যমে ডিলার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার ফলে বছরে ৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। নিজস্ব গুদাম ব্যবস্থাপনায় আরো ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এই দুই খাত মিলিয়ে বছরে পরিচালন ব্যয় কমছে ৮০ কোটি টাকা।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাণিজ্যিক ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় ছিল ৫৩৩ কোটি টাকা, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কমে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা হতে পারে। এছাড়া, ৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়ে টিসিবি, বিক্রয় রাজস্ব ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, সুবিধাভোগীপ্রতি ভর্তুকি ১৭ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাবান, ডিটারজেন্ট, লবণ, চা, আটা ও মসলা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টিসিবি ‘উপকারী’ নামে একটি স্মার্ট অ্যাপ চালু করেছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রের তথ্য ও পণ্য পাওয়ার বিজ্ঞপ্তি পাবেন। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাজারদর পর্যবেক্ষণ এবং স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তাসুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
"ডিজিটাল ব্যবস্থা শুধু চালু করা যথেষ্ট নয়, এর কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। ভোক্তাদের কাছ থেকেও জানতে হবে তাঁরা কীভাবে সুবিধা পাচ্ছেন।"
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার আর্মি গলফ ক্লাব, গলফ গার্ডেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজনীন আহমেদ (সিপিডি), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী), বদরুন নেসা আহমেদ (বিআইডিএস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ কোটি টাকা (সাশ্রয়), ৭৯ লাখ ৯০ হাজার (সুবিধাভোগী), ৫৯ লাখ (ভুয়া আবেদন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!