📌 ঠাকুরগাঁওতে স্বর্ণকারদের সংখ্যা ৬০০ থেকে ৭০০ জন থেকে কমে ২০০-২৫০ জনে। সোনার দাম বৃদ্ধি, বিদেশি গয়নার বাজার দখল এবং প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়ায় কারিগররা পেশা বদল করছে অটোরিকশা চালানো বা দোকান ব্যবস্থাপনার কাজে। স্থানীয় গয়না কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
ঠাকুরগাঁও শহরে স্বর্ণশিল্পের ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের পেশা ধ্বংসের মুখে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ৬০০ থেকে ৭০০ জন কারিগর থেকে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ জনে। সোনার দামের বৃদ্ধি, বিদেশি তৈরি গয়নার বাজার দখল এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। সংসার চালাতে না পেরে অনেক কারিগর অটোরিকশা চালাচ্ছেন, রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন বা পানের দোকান ও সবজি বিক্রি করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁওতে স্বর্ণকারদের সংখ্যা ৬০০-৭০০ জন থেকে কমে ২০০-২৫০ জনে — প্রায় ৬০% বেকার হয়ে পড়েছেন
- 📌 সোনার দাম বৃদ্ধি, বিদেশি গয়নার বাজার দখল এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাব প্রধান কারণ
- 📌 কারিগরদের হাতুড়ি ও যন্ত্রপাতিতে জং ধরেছে, অনেকের ড্রয়ার ও আসবাবপত্র বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন
- 📌 ক্রেতারা রেডিমেড গয়না কিনতে পছন্দ করছেন — অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করতে চান না
- 📌 দিনে মাত্র ৫০০-৭০০ টাকা আয় করায় নতুন প্রজন্ম পেশায় আসছে না
- 📌 স্থানীয় গয়না কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শ্রমিক সংখ্যা কমে ২-৩ জনে
📰 বিস্তারিত
ঠাকুরগাঁও স্বর্ণশিল্পী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুকুমার রায় মঙ্গল জানান, আগে কারিগরদের কাজের অভাব ছিল না। কিন্তু এখন অনেকের সমিতির চাঁদা দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ২২ ক্যারেটের তৈরি গয়না আসায় স্থানীয়ভাবে গয়না বানানোর ফরমাশ একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।
নর্থ সার্কুলার রোডের সুমা জুয়েলার্সের মালিক মদন কুমার দত্ত এবং কারিগর সুরেশ চন্দ্র বলেন, ক্রেতারা এখন আর অর্ডার দিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করতে চান না। তারা সরাসরি তৈরি রেডিমেড গয়না কিনে নিয়ে যেতে পছন্দ করেন। ক্রেতারা নাজমা বেগম, নাফিসা তাসনিম, সুমি আক্তার ও মাসুদ রানা বলেছেন, রেডিমেড গয়নার ডিজাইন সুন্দর, সময় বাঁচে এবং সোনার মান ও বিশুদ্ধতা নিয়ে স্বস্তি পাওয়া যায়।
৩৫ বছরের অভিজ্ঞ স্বর্ণকার মো. লিটন ইসলাম বলেছেন, আগে সোনার দাম কম থাকায় প্রচুর কাজ হতো, এখন দাম বাড়ায় অর্ডারি কাজ কমে গেছে। আবার নিউ মিডিয়া জুয়েলার্সের গোপাল চন্দ্র জানান, বিদেশি গয়না মেশিনে দ্রুত ও আকর্ষণীয় ফিনিশিংয়ে তৈরি হয়। যে হার বানাতে হাতে চার দিন লাগে, মেশিনে তা এক দিনে সম্ভব। কিন্তু ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার এসব আধুনিক মেশিন কেনার সামর্থ্য ছোট কারিগরদের নেই।
হৃদয় জুয়েলার্স বালা কারখানার স্বত্বাধিকারী রনিক চন্দ্র বণিক বলেন, আগে পাঁচ-সাতজন শ্রমিক কাজ করলেও এখন দুজনের কাজ চালানোই কঠিন। আশপাশের চেইন ও রঙের কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি জানান, দেশেও হলমার্ক ও কেডিএম প্রযুক্তিতে মানসম্মত গয়না বানানো সম্ভব হলেও মহাজনেরা বিদেশি গয়না বিক্রি করতেই বেশি আগ্রহী।
"দিনে আয় এখন মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। কারিগর বিপ্লব কুমার"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঠাকুরগাঁও শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুকুমার রায় মঙ্গল, মদন কুমার দত্ত, মো. লিটন ইসলাম, রনিক চন্দ্র বণিক, গোপাল চন্দ্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০০-৭০০ (আগের কারিগর সংখ্যা), ২০০-২৫০ (বর্তমান কারিগর সংখ্যা), ২২ (ক্যারেট), ৭-১০ (দিন), ২০-৩০ (লাখ টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!