📌 খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শিক্ষক ম্রানুচিং মারমা করোনাকালে সংকটের মুখে পড়লে নিজের হাতে আমের আঁটি সংগ্রহ করে নার্সারি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এক একর জমিতে ৫ হাজার চারা উৎপাদন করে তিনি বছরে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় করছেন।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় বসবাসকারী শিক্ষক ম্রানুচিং মারমা করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্ধের কারণে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি সংকটকে সুযোগে পরিণত করে নিজের হাতে আমের আঁটি সংগ্রহ করে একটি সফল নার্সারি ব্যবসা গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর এক একর জমির নার্সারিতে বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করে তিনি বছরে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩১ বছর বয়সী ম্রানুচিং মারমা পানছড়ি উপজেলার যৌথকামার এলাকায় ১ একর জমিতে নার্সারি পরিচালনা করছেন
- 📌 করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়লে নিজের হাতে চারা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন
- 📌 প্রথম বছর ১২ হাজার টাকার চারা বিক্রি করে শুরু করেন, বর্তমানে বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করে ১৫-১৮ লাখ টাকা আয় করছেন
- 📌 নার্সারিতে আম ছাড়াও বারোমাসি কাঁঠাল, লটকন, লিচু ও পেয়ারা চারা উৎপাদন করা হয়
- 📌 শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রতিদিন নার্সারিতে কাজ দেখাশোনা করেন
📰 বিস্তারিত
ম্রানুচিং মারমা এবং তাঁর স্বামী উচিমং মারমা উভয়েই শিক্ষকতা করেন। স্বামী মহালছড়ি উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ম্রানুচিং মারমা বলেন, ‘২০২০ সালের মাঝামাঝি করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিয়মিত বেতন না পেয়ে সংসার চালাতে সংকটে পড়ি। শুরুতে ছোট শিশুদের পড়িয়ে কিছু আয় করতাম। একপর্যায়ে টিউশনও বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে আমের চারা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিই।’
প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আমের আঁটি সংগ্রহ করে তিনি চারা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথম বছরেই ১২ হাজার টাকার চারা বিক্রি করে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে কলম পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন শেখে বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করতে থাকেন। বর্তমানে তাঁর নার্সারিতে আম ছাড়াও বারোমাসি কাঁঠাল, লটকন, লিচু ও পেয়ারা চারা উৎপাদন করা হয়।
নার্সারিতে প্রায় ৫ হাজার চারা উৎপাদন করা হয়। জাতভেদে আমের চারা ৪০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি অনলাইনে ‘গ্রিন কেয়ার নার্সারি’ নামে তাঁর একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাঁর নার্সারিতে চারা কিনতে আসেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে নার্সারিতে গিয়ে গাছের পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজ দেখাশোনা করেন তিনি।
"আমি সব সময় সুলভ মূল্যে চারা বিক্রির চেষ্টা করি। নিজেদের জায়গায় নার্সারি হওয়ায় জায়গার জন্য বাড়তি খরচ করতে হয় না। এ ছাড়া এলাকায় জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত গোবরও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। এসব কারণে ক্রেতাদের কাছে সাশ্রয়ী দামে চারা বিক্রি করা সম্ভব হয়।"
পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ম্রানুচিং মারমার চারা উৎপাদনের উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি বলেন, “কৃষি বিভাগের কাছে সহযোগিতা বা পরামর্শ চাইলে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।” খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “নিজ উদ্যোগে আমের চারা বিক্রির নার্সারি গড়ে তোলা ভালো কাজ। পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নার্সারিটি পরিদর্শন করে ম্রানুচিংয়ের জন্য কী করা যায়, তা দেখবেন।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পানছড়ি উপজেলা, খাগড়াছড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ম্রানুচিং মারমা, উচিমং মারমা, রোমিতা দেওয়ান, আব্দুস সালাম, নাসির উদ্দিন চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ বছর, ১৫-১৮ লাখ টাকা, ৫ হাজার চারা, ৪০-৩০০ টাকা, ১২ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!