📌 সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চা-শিল্পের সুপারিশকে আত্মঘাতী বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চা-শিল্পের সমস্যা কেবল বাণিজ্যিক নয়, উৎপাদনশীলতাও নিচু। সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে বিদেশি পরামর্শকদের উপর নির্ভরতা এবং শ্রমিকদের উপেক্ষা করা আশঙ্কাজনক
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চা-শিল্পের সুপারিশকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে সমালোচনা করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, চা-শিল্পের সমস্যা কেবল বাণিজ্যিক সংকটের নয়, উৎপাদনশীলতাও নিচু। সরকারের ঘোষিত নীতির বিপরীতে চা-শিল্পের পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা আশঙ্কাজনক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হোসেন জিল্লুর রহমান** বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১০টি সুপারিশে চা-শিল্পের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে ‘কৃষিপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
- 📌 **বাংলাদেশ ব্যাংকের** ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে চা-শিল্পকে ‘কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক খাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ৬০% কৃষি ও ৪০% শিল্পের মিশ্রণ রয়েছে।
- 📌 **সিলেট ও চট্টগ্রাম** বিভাগের ১৬০টি চা-বাগানের মধ্যে ৭০টিরও বেশি দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের কারণে লোকসানে চলে।
- 📌 **সেড-এর** পরিচালক ফিলিপ গাইন উল্লেখ করেছেন, সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় শ্রমিক বা ট্রেড ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
- 📌 **হোসেন জিল্লুর রহমান** বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে বিদেশি পরামর্শকদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অত্যন্ত হতাশাজনক।
📰 বিস্তারিত
আজ বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চা–শিল্পের পুনর্গঠন ও চা–শ্রমিকদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব’ বিষয়ে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবগুলো বর্তমান সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে বড় ধরনের স্ববিরোধিতা। তিনি বলেন, ‘চা’কে কেবল কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা এবং চা-বাগানগুলো কম সুদে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা — এসব সুপারিশ আত্মঘাতী।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চা-শিল্পের সমস্যা কেবল বাণিজ্যিক সংকটের নয়, উৎপাদনশীলতাও নিচু। তিনি উল্লেখ করেন, সব কোম্পানি এক নয় — কেউ উৎপাদনশীল ও শ্রমিকবান্ধব, আবার কেউ অব্যবস্থাপনায় চলছে। তিনি বলেন, ‘সবাইকে এক পাল্লায় না মেপে মূল আলোচনাটা হওয়া উচিত পুরো খাতের টেকসই বিকাশ নিয়ে’।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে চা-শিল্পকে ‘কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক খাত’ বা ‘কৃষি-শিল্প খাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত দুটি কাজের মিশ্রণ — ৬০% কৃষি ও ৪০% শিল্প। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রস্তাবে সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের স্ববিরোধিতা স্পষ্ট। তিনি বলেন, সরকার সংস্কারের কথা বলছে, অথচ সংকীর্ণ স্বার্থে চা-শিল্পের পরিচয় বদলের চেষ্টা চলছে।
সেড-এর পরিচালক ফিলিপ গাইন বলেন, সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় চা-শ্রমিক বা তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ট্রেড ইউনিয়নের কোনো অংশগ্রহণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সে কেবল চা-বাগানমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশি চা সংসদের প্রতিনিধি রয়েছে। তিনি বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬০টি চা-বাগানের মধ্যে ৭০টিরও বেশি দুর্বল ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহির সমস্যা, দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের কারণে লোকসানে চলে।
"বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে চা-শিল্পের সংস্কারে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটিতে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বদলে বিদেশি পরামর্শকদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অত্যন্ত হতাশাজনক। চা কেবল অর্থকরী ফসল নয়, এর একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত মূল্য রয়েছে। সেই বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে তড়িঘড়ি করে খাতের চরিত্র পরিবর্তনের যেকোনো সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (জাতীয় প্রেসক্লাব), সিলেট, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোসেন জিল্লুর রহমান, ফিলিপ গাইন, খুশী কবির, তানজিমউদ্দিন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি সুপারিশ, ১৫% ভ্যাট, ৫% ভ্যাট, ৬০% কৃষি, ৪০% শিল্প, ১৬০টি চা-বাগান, ৭০টি দুর্বল বাগান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!