📌 ২২ সেপ্টেম্বর জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা চা-বাগানের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ চা সংসদ সরকারকে এই প্রকল্পের অনুমতি দাবি করেছে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জ্বালানির দাম একলাফে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতির ইতিবাচক প্রবণতাকে ধ্বংস করতে পারে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) শুধু এক বছর বাদে মুনাফা অর্জন করেছে। এই ১০ বছরে বিপিসির নিট মুনাফা হয়েছে ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে বিপিসি লোকসান ধারায় পতিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর জ্বালানির দাম বাড়ানো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন
- 📌 বিপিসির লোকসান কমাতে সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পেছনে দাবি করা অজুহাত "খোঁড়া" বলে মনে করা হচ্ছে
- 📌 চা-বাগানের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ চা সংসদ দাবি করেছে
- 📌 পাকিস্তান ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি
- 📌 জার্মানি বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করেছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানোর জন্য জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে বলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের পেছনে দাবি করা অজুহাতকে "খোঁড়া" বলে মনে করছেন। বিশেষ করে, সরকার জ্বালানি খাতে ৩১ শতাংশ হারে শুল্ক-কর ধার্য করেছে। যদি এই শুল্ক-কর সামান্য হ্রাস করা হতো, তাহলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব হতো।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারি ব্যয় বর্তমান অর্থবছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর পেছনে এই বেতন বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি সোলার পাওয়ার উৎপাদনে যথাযথ অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, তাহলে আমদানি করা তেল এবং এলএনজির আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা সামাল দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না।
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে মোট ১৬৮টি চা-বাগান রয়েছে। বাংলাদেশ চা সংসদের তথ্য অনুযায়ী, এই চা-বাগানগুলোর ৫০-৫২ শতাংশ জমিতে চা উৎপাদন সম্ভব নয়, কারণ এসব জমিতে সরাসরি সূর্যের আলো বেশি পড়ায় চা-গাছ বাঁচতে পারে না। চা সংসদ সরকারকে এই অব্যবহৃত জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের অনুমতি দাবি করেছে। তারা দাবি করেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই-তিন বছরের মধ্যে চা-বাগানগুলিতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান ইতিমধ্যে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সোলার পাওয়ার উৎপাদন করছে, যা তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি। ভারতে সোলার পাওয়ার উৎপাদন ৭০ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে। অথচ বাংলাদেশে সোলার এনার্জি উৎপাদন এখনো ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জমির তুলনামূলক স্বল্পতার সমাধান পাওয়া যাবে যদি দেশের বঙ্গোপসাগরের চরাঞ্চল, উপকূল এবং নদ-নদীর দুই পাড়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়।
"সোলার পাওয়ার উৎপাদনে যথাযথ অগ্রাধিকার দিলে আমদানি করা তেল এবং এলএনজির আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা সামাল দেওয়ার অজুহাতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন পড়ত না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট বিভাগের চা-বাগান, বঙ্গোপসাগর, নদ-নদী ও খালের দুই পাড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুহুল কবির রিজভী (বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব), বাংলাদেশ চা সংসদের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা (বিপিসির নিট মুনাফা), ১০ হাজার মেগাওয়াট (সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনা), ৩১ শতাংশ (জ্বালানি শুল্ক-কর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!