📌 জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের জমানো টাকার সুদে অতিরিক্ত কর বসানোর প্রস্তাব করেছে। গড় সঞ্চয় ১ লাখ টাকার কম এই মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামের নারী, যাঁরা সপ্তাহে ১০ থেকে ১০০ টাকা করে সঞ্চয় করেছেন। বেসরকারি গবেষণা থেকে দেখা যায়, দারিদ্র্য হার বেড়েছে ২৮ শতাংশে এবং পরিবারের মাসিক আয়-ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের জমানো টাকার সুদে অতিরিক্ত কর বসানোর প্রস্তাব করেছে, যা দেশের প্রায় ৪ কোটি ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীর জীবনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। এই সঞ্চয়কারীদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামের নারী, যাঁরা সপ্তাহে মাত্র ১০ থেকে ১০০ টাকা করে টাকা জমিয়েছেন। এনবিআর এই সঞ্চয়কারীদের সুদের ওপর কর দাবি করছে, যা তাদের জীবনযাপনের মূল ভিত্তি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এনবিআর প্রায় ৪ কোটি ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীর সুদে কর বসাতে চাচ্ছে, যাঁদের গড় সঞ্চয় ১ লাখ টাকার কম
- 📌 সঞ্চয়কারীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ নারী, যাঁরা সপ্তাহে ১০ থেকে ১০০ টাকা করে টাকা জমিয়েছেন
- 📌 সঞ্চয়কারীদের সুদের ওপর কর দাবি করা হচ্ছে, যা তাদের জমানো টাকার মূল্য হ্রাস করবে
- 📌 বেসরকারি গবেষণা থেকে দেখা যায়, দারিদ্র্য হার বেড়েছে ২৮ শতাংশে এবং পরিবারের মাসিক আয়-ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে
- 📌 অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হলেও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কর আদায়ের চিঠি পৌঁছেছে
📰 বিস্তারিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের সুদে অতিরিক্ত কর বসানোর প্রস্তাব করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই সঞ্চয়কারীদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামের নারী, যাঁরা সপ্তাহে মাত্র ১০ থেকে ৫০ টাকা করে টাকা জমিয়েছেন। তাদের সঞ্চয় করা টাকা ছিল মেয়ের বিয়ের জন্য, ঘরের চাল বদলানোর জন্য বা অসুখে পড়লে চিকিৎসা করার জন্য। এখন সেই জমানো টাকার সুদের ওপর কর বসানোর প্রস্তাব এসেছে, যা তাদের জীবনযাপনের মূল ভিত্তি।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ২০২৫ সালের জাতীয় জরিপ থেকে দেখা যায়, দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে। অতিদারিদ্র্যের হারও বেড়েছে ৫.৬ শতাংশ থেকে ৯.৩৫ শতাংশে। জাতীয়ভাবে একটি পরিবারের মাসিক আয় গড়ে ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা, কিন্তু ব্যয় ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। অর্থাৎ সঞ্চয়ের জন্য কার্যত কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। শহরের অবস্থা আরও খারাপ, যেখানে আয় কমে ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকায় নেমেছে, কিন্তু ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকায়। প্রতি মাসেই ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ৫৫ শতাংশ খাদ্যে খরচ হয়।
এই অবস্থায় সঞ্চয়কারীদের জমানো টাকার সুদে কর বসানোর প্রস্তাব এসেছে, যা তাদের জীবনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেছেন, এনবিআর এখন সেই সুদের ওপর কর দাবি করছে বিগত বছরগুলোর জন্য। যদি আদায় না করা যায়, তাহলে এই কর দিতে হবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। তিনি বলেছেন, অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হলেও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এনবিআরের কাছ থেকে চিঠি আসা শুরু হয়েছে।
"এটা খুবই হতাশাজনক যে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীর ওপর কর বসাতে চাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এমন মানুষদের কাছ থেকে কর নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যাঁদের গড় সঞ্চয় ১ লাখ টাকার কম। তাঁরা আবার বাণিজ্যিক আমানতকারীও নন এবং তাঁদের বেশির ভাগই গ্রামের নারী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (গ্রামীণ এলাকা ও শহর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসিফ সালেহ (ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ কোটি (ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী), ১ লাখ টাকা (গড় সঞ্চয়), ১০-১০০ টাকা (সপ্তাহে সঞ্চয়), ২৮ শতাংশ (দারিদ্র্য হার), ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা (মাসিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!