📌 ২০২৬-২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয় সীমা বাড়লেও নতুন করধাপ, বিনিয়োগ রেয়াত কমানোর কারণে অনেক করদাতার কর বেড়েছে। একই আয় ও বিনিয়োগে করের অঙ্ক কীভাবে বদলাচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে
২০২৬-২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানো হলেও নতুন করধাপ, বিনিয়োগ রেয়াত কমানোর কারণে অনেক করদাতার কর বেড়েছে। একই আয় ও একই বিনিয়োগের পরেও করের অঙ্ক কীভাবে বদলাচ্ছে, তা এ লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। করমুক্ত সুবিধা পেলেও কর বাড়ার কারণ কী, সেটি জানতে পারবেন এই প্রতিবেদন থেকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত হলেও নতুন করধাপে ৭ লাখ টাকা করযোগ্য আয় ছাড়ালে কর বাড়তে শুরু করে।
- 📌 বিনিয়োগ রেয়াত কমে গেছে — গতবর্ষে ১৫% থেকে এবার ১০% করা হয়েছে, সর্বোচ্চ রেয়াতও ১০ লাখ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নেমেছে।
- 📌 সঞ্চয়পত্রের মুনাফার করপদ্ধতি বদলেছে — নতুন নিয়মে করের অঙ্ক বাড়তে পারে।
- 📌 ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা সারা দেশে প্রযোজ্য, যা করের অঙ্ক বাড়াচ্ছে।
- 📌 ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালের আয় ও বিনিয়োগের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
২০২৬ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলেও, নতুন করধাপ, বিনিয়োগ রেয়াত কমানোর কারণে অনেক করদাতার কর বেড়েছে। অর্থ আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণির আয়করে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২৭-এ নতুন করধাপ, বিনিয়োগ রেয়াত, ন্যূনতম কর এবং রিটার্ন দেওয়ার সময় অনুযায়ী ছাড় ও বাড়তি করের নিয়ম ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
গতবর্ষে সাধারণ করদাতার প্রথম সাড়ে ৩ লাখ টাকা করমুক্ত ছিল। পরের ১ লাখ টাকার ওপর কর ছিল ৫ শতাংশ। এবার করমুক্ত সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু এর পরের আয়েই ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থাৎ আগের ৫ শতাংশের করধাপটি তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত। পরের ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, পরের ৪ লাখে ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখে ২৫ শতাংশ এবং বাকি আয়ে ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে।
বিনিয়োগ রেয়াত কমার কারণে কর বাড়ছে। গতবর্ষে তিনটি হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে কম অঙ্কটি রেয়াত হিসেবে পাওয়া যেত। এবার অনুমোদিত বিনিয়োগের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ রেয়াতও ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে একই পরিমাণ বিনিয়োগ করেও এবার কম রেয়াত পাওয়া যাবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন করদাতার করযোগ্য আয় ১০ লাখ টাকা এবং তিনি অনুমোদিত খাতে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। গতবর্ষে তাঁর নিট কর ছিল ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, এবার তা বেড়েছে ৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ একই আয় ও একই বিনিয়োগে কর বাড়েছে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।
"করমুক্ত সীমা বাড়ানোর সুবিধা মূলত কম আয়ের করদাতারা পেয়েছেন। করযোগ্য আয় ৭ লাখ টাকা ছাড়ালে নতুন করধাপের কারণে কর বাড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারা দেশে প্রযোজ্য)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাধারণ করদাতা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- ৪ লাখ টাকা (করমুক্ত সীমা)
- ৭ লাখ টাকা (কর বাড়তে শুরু করে)
- ৫ হাজার টাকা (ন্যূনতম কর)
- ১০ লাখ টাকা (গতবর্ষের সর্বোচ্চ রেয়াত)
- সাড়ে ৭ লাখ টাকা (এবারের সর্বোচ্চ রেয়াত)
- ১৭ হাজার ৫০০ টাকা (কর বৃদ্ধির পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!