📌 শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত বেশিরভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে লোকসানে ছিল। সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, বিএসএফআইসি, বিসিআইসি ও বিএসইসির অধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের লোকসান ও লাভের সত্য প্রকাশ পেয়েছে। মন্ত্রণালয়কে লাভজনক করার জন্য প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত বেশিরভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে (২০২৫–২৬) লোকসানে ছিল। মঙ্গলবার সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনটি করপোরেশনের অধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর গত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপিত হয়। সেখানে বিএসএফআইসি, বিসিআইসি ও বিএসইসির অধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিএসএফআইসি করপোরেশনের** ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি (কেবল কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ব্যতীত) লোকসানে ছিল। গত অর্থবছরে করপোরেশনের মোট আয় হয়েছিল ১ হাজার ২২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আর মোট ব্যয় ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
- 📌 **বিসিআইসি করপোরেশনের** ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টি সার কারখানা লোকসান দিয়েছে। গত অর্থবছরে করপোরেশনের মোট লোকসান হয়েছিল ৩০০ কোটি টাকা।
- 📌 **বিএসইসি করপোরেশনের** ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টি লোকসানে ছিল। লাভ করতে পেরেছিল মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান: প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ (৬৩ কোটি টাকা), ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস (৫ কোটি টাকা) ও জিইএম কোম্পানি (৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা)।
- 📌 **লোকসানকৃত চিনিকলগুলোর** জন্য মন্ত্রণালয়কে বায়োপ্রোডাক্ট উৎপাদন ও লাভজনক করার জন্য প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
- 📌 **সার কারখানাগুলোতে** নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত ও উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে কমিটি গুরুত্বারোপ করেছে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ছাড়া বাকি ১৫টি প্রতিষ্ঠান লোকসানে ছিল। গত অর্থবছরে করপোরেশনের মোট আয় ছিল ১ হাজার ২২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, কিন্তু মোট ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪–২৫) আয় ছিল ৮৯৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা, আর ব্যয় ছিল ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টি সার কারখানা লোকসান দিয়েছে। গত অর্থবছরে করপোরেশনের মোট লোকসান হয়েছিল ৩০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টি লোকসানে ছিল। লাভ করতে পেরেছিল মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান: চট্টগ্রামের প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (৬৩ কোটি টাকা), গাজীপুরের ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড (৫ কোটি টাকা) ও চট্টগ্রামের জিইএম কোম্পানি লিমিটেড (৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা)।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকের শেষে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লোকসানকৃত চিনিকলগুলোর জন্য বায়োপ্রোডাক্ট তৈরি করে লাভজনক করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত ও উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
"লোকসানকৃত চিনিকলে বায়োপ্রোডাক্ট তৈরি করে কীভাবে চিনিকলগুলোকে লাভজনক করা যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে সাংসদীয় কমিটি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সংসদ কমিটি বৈঠক), চট্টগ্রাম (প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ, জিইএম কোম্পানি), গাজীপুর (ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবুল কালাম (সভাপতি), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (শিল্পমন্ত্রী), কাজী রফিকুল ইসলাম, আবদুস সালাম আজাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬টি প্রতিষ্ঠান (বিএসএফআইসি), ১৫টি লোকসান, ১ হাজার ২২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা (আয়), ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা (ব্যয়), ৩০০ কোটি টাকা (বিসিআইসি লোকসান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!