📌 সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ওশান হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে যেখানে সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সরিয়ে নেওয়া যায়। প্রতি মাসে ৬০-৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ৪০-৫০ হাজার ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে
সাতক্ষীরা: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি চিংড়ি হ্যাচারিতে হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের সূচনা হয়েছে। শ্যামনগরের ওশান হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হ্যাচারির বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ওশান হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে — বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চিংড়ি হ্যাচারিতে হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে
- 📌 প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব
- 📌 প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে
- 📌 প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে
- 📌 সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যায়, ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করা সম্ভব
📰 বিস্তারিত
সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সাইমা পাওয়ার টেকনোলজি ও সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাজেদুল করিম জানান, শ্যামনগরের ওশান সি হ্যাচারির সঙ্গে তাদের ২৫০ কিলোওয়াটের হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এখানে এমন একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করা সম্ভব হবে।’
হ্যাচারি মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা এখানে ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করছি। এতে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংকগুলো রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির সৌর প্যানেল ব্যবহারের ফলে সেই কাজ সহজ হবে এবং হ্যাচারির কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড়ো প্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলো নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ওই বিদ্যুৎ কিনবে। ওশান হ্যাচারিতে স্থায়ী সৌর প্যানেলের পরিবর্তে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় প্যানেলগুলো একপাশে সরিয়ে হ্যাচারির পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকবে। শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’
"প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্প থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাজেদুল করিম (সাইমা পাওয়ার পরিচালক), আব্দুল আজিজ (হ্যাচারি মালিক), আজিজুর রহমান (সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ কিলোওয়াট (সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষমতা), ৬০-৭০ হাজার ইউনিট (মাসিক বিদ্যুৎ উৎপাদন), ৪০-৫০ হাজার ইউনিট (অতিরিক্ত গ্রিডে সরবরাহ), ১ কোটি ২০-২৫ লাখ টাকা (প্রকল্পের বিনিয়োগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!