📌 মন্ত্রিসভা সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারের জন্য বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ হবে। ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে
মন্ত্রিসভা সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারের জন্য একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আরও সহজ হয়ে উঠবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ২৫তম মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আইনি কাঠামো সুস্পষ্ট করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদিত হয় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া
- 📌 ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে
- 📌 সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ওপেক্স ও ক্যাপেক্স মডেল উভয়েই সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে
- 📌 ১৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান নেই — এ কারণে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে
- 📌 বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আইনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো অনুপস্থিত
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। এই কৌশলপত্রের অংশ হিসেবে আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, তাদের জন্য ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশেষ অধ্যাদেশের প্রণয়নের অন্যতম কারণ হলো বর্তমান আইনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামোর ঘাটতি। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এ সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান না থাকার কারণে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান অনুপস্থিত। অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলেও সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আইনি কাঠামো সুস্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগ, চুক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
"বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর মাধ্যমে আমরা সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করেছি। এতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মন্ত্রিসভা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ (অক্টোবর), ২৫ (তম বৈঠক), ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট, ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!