📌 সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা আখ থেকে বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকরা গুড় বিক্রির ভালো দামে লাভবান হচ্ছেন। শীতের শুরুতে শুরু হওয়া আখ মাড়াই থেকে নতুন গুড় বাজারে উঠেছে, তবে ভেজাল মেশানোর অভিযোগও রয়েছে
সিরাজগঞ্জ জেলায় বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এখানকার ১০ হাজার হেক্টর আখক্ষেত থেকে শুরু হওয়া আখ মাড়াই থেকে নতুন গুড় বাজারে উঠেছে। শীতের শুরুতে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গুড়ের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং প্রতি কেজি খাঁটি গুড়ের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এবার বাম্পার ফলন পেয়েছে
- 📌 আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি ও বোনসহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষ করা হয়েছে, বিশেষ করে উঁচু ও দোআঁশ জমিতে
- 📌 আখের মোতা থেকে পুনরায় আখ উৎপাদন করে কৃষকরা কম খরচে বেশি লাভ করছেন
- 📌 প্রতি বিঘা জমির আখ ক্ষেতসহ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা
- 📌 ভেজাল মেশানোর অভিযোগ থাকলেও কৃষকরা আটা ও চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি করাকে ভেজাল বলে মনে করেন না
- 📌 প্রতি গ্লাস আখের রস বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জ জেলার চরাঞ্চলসহ বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় আখের চাষ বেশি হয়েছে। কৃষকরা বিভিন্ন জাতের আখ সংগ্রহ করে তিন চোখের ডাঁট বা টুকরা জমিতে রোপণ করেছেন। বিশেষ করে উঁচু ও দোআঁশ জমিতে এ আখের চাষ বেশি হয়। এছাড়া তিন-চার বছর মেয়াদি আখের মোতা থেকে নতুন আখ উৎপাদন করা হয়। অর্থাৎ একবার আখ চাষ করলে দীর্ঘমেয়াদি মোতা থেকে পুনরায় আখ গজায়। এতে কম খরচে আখ উৎপাদন করে বেশি লাভবান হন কৃষকেরা।
যমুনা নদীর তীরবর্তী পারপাঁচিল গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন জানান, তারা ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। এর বেশিরভাগই আখের মোতা থেকে উৎপাদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরি শুরু করেছেন। দাম ভালো থাকায় এবার বেশি লাভের আশা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহমেদ বলেন, এবার আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে এ চাষাবাদে লাভ বেশি হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে আখ চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে পুরো শীত মৌসুমে আখ মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে বলে জানান তিনি।
"আখের গুড় তৈরিতে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ রয়েছে। অসাধু কিছু কৃষক আটা, চিনি ও সোডা মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আটা ও চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি করাকে তারা ভেজাল বলে মনে করেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ জেলা (৯টি উপজেলা: বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ সদর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রাজ্জাক, আনোয়ার হোসেন, জেরিন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০,০০০ হেক্টর জমি; ৯টি উপজেলা; ৩ পোয়া (ডিমা); ১০০-১২০ টাকা (প্রতি ডিমা); ২০০-২৫০ টাকা (প্রতি কেজি); ৪০-৫০ হাজার টাকা (প্রতি বিঘা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!