📌 সিরাজগঞ্জের যমুনা চরাঞ্চলের কৃষকরা মাশকলাই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বন্যা-প্রবণ এলাকায় এই ফসলের চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ শুরু হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা নতুন আশা নিয়ে মাশকলাই চাষ করছেন
সিরাজগঞ্জের যমুনা চরাঞ্চলে মাশকলাই চাষে কৃষকদের নতুন আশা জাগিয়েছে। বন্যা-প্রবণ এলাকায় এই ফসলের চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখে কৃষকরা এবছর ৫ হাজার হেক্টর জমিতে মাশকলাই চাষ শুরু করেছেন। সরকারি সহায়তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা এই ফসলের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলায় মাশকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর, এখন পর্যন্ত ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে
- 📌 বন্যা পরবর্তী সময়ে মাশকলাই চাষের কারণে ছয় ইউনিয়নে ফলন বেশি হয়েছে
- 📌 প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মন মাশকলাই পাওয়া যায়, যা লাভজনক বলে মনে করছেন কৃষকরা
- 📌 সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে
- 📌 কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলা থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ সদরসহ সমগ্র জেলায় মাশকলাই চাষের আগ্রহ বেড়েছে। যমুনা নদীবিধৌত এই এলাকায় প্রতিবছর বন্যা জনপদের কৃষকদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু এবছর কৃষকরা মাশকলাই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা আদিকালের পদ্ধতি পরিহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে মাশকলাই চাষ শুরু করেছেন।
মনসুরনগর ইউনিয়নের চাষি সবুর মিয়া বলেন, “এ বছর দুই বিঘা জমিতে মাশকলাই চাষ করেছি। এই চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ হয় বেশি। সার ও পানির খরচও কম।” অন্যদিকে, ছরগিরিশের চাষি হান্নান বলেন, “নিজের তিন বিঘার পাশাপাশি আরও এক বিঘা বর্গা নিয়ে মাশকলাই লাগিয়েছি। কৃষি বিভাগের লোকেরা আমাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।”
তেকানীর চাষি জামাল উদ্দিন জানান, “মাশকলাই আবাদ করার পর ধানের আবাদ করলে ফলন ভালো হয়। আর বন্যার পর তো জমি পতিতই থাকে। সেখানে কলাই চাষ করে বাড়তি আয়ও হচ্ছে।”
"মাশকলাই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ভালো ফলন পেতে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।"
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, “কৃষকরা যেন অধিক লাভবান হতে পারেন সে জন্য কৃষি অফিস সব সময় পাশে আছে।” কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা জানান, “এবার কাজিপুর, চৌহালী, সিরাজগঞ্জ সদর সহ সমগ্র জেলায় মাশকলাইয়ের উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা। অতি বৃষ্টি আর বন্যাজনিত কারণে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যহত হয়েছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ জেলা, কাজিপুর উপজেলা, মনসুরনগর ইউনিয়ন, ছরগিরিশ, তেকানী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সবুর মিয়া, হান্নান, জামাল উদ্দিন, মোঃ শরিফুল ইসলাম, এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর (লক্ষ্যমাত্রা), ৫ হাজার হেক্টর (চাষ হয়েছে), ৫-৭ মন (প্রতি বিঘায় ফলন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!