📌 বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রভাবশালী একটি গ্রুপের হুমকির কারণে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের দরপত্রে কেউ অংশ নিতে সাহস করেনি। বিএডিসি পুনঃদরপত্র আহ্বান করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রভাবশালী একটি গ্রুপের হুমকির কারণে ঢাকার মতিঝিলে সার পরিবহনের দরপত্রে কেউ অংশ নিতে সাহস করেনি। গত মঙ্গলবার ৭৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো পরিবহন ঠিকাদারই অংশগ্রহণ করেননি। বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের দরপত্রে কেউ অংশ নিতে সাহস করেনি — প্রভাবশালী গ্রুপের হুমকির কারণে
- 📌 মো. কামাল হোসেন (জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি) এবং তাঁর অনুসারীদের হুমকির কারণে দরপত্র জমা দেওয়া বন্ধ
- 📌 বিএডিসির সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সার ব্যবস্থাপকের অফিসে হুমকি দেওয়া হয় — সমঝোতা ছাড়া দরপত্র জমা দেওয়া বন্ধ রাখার চাপ
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয়নি — শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান (আকিজ রিসোর্স) দরপত্র জমা দেয়, কিন্তু সেটি ছিল ৩০ হাজার টন সার পরিবহনের জন্য
- 📌 বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম পুনঃদরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন
- 📌 ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দরপত্রের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ছিল জমাদানের শেষ সময়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রভাবশালী একটি গ্রুপের হুমকির কারণে সার পরিবহনের দরপত্রে কেউ অংশ নিতে সাহস করেনি। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ৭৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তবে কোনো পরিবহন ঠিকাদারই অংশগ্রহণ করেননি। বিএডিসির সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. কামাল হোসেন এবং তাঁর অনুসারীদের নেতৃত্বে সার ব্যবস্থাপকের অফিসে এসে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কেউ দরপত্র জমা দিতে পারবে না।
কামাল হোসেনের অনুসারীরা দিনভর বিএডিসিতে অবস্থান করলেও, কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দিতে সাহস করেনি। বিএডিসির কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, ‘নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া’ তারা দরপত্র জমা দেবেন না। বিএডিসির সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দরপত্রের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয়নি।
বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম এবং জিএম (সার ব্যবস্থাপনা) আজিম উদ্দিন কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। বিএডিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, দরপত্র নিয়ে বিগত কয়েক বছরে তাদের দপ্তরে এমন ঘটনা ঘটেনি। বিএডিসির চেয়ারম্যান পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
গতকাল (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএডিসির সার ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে দেখা যায়, আরেকটি লটের ৩০ হাজার টন সার পরিবহনের জন্য দরপত্র জমার কাজ চলছিল। টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পুলিশের উপস্থিতিতে বিএডিসির কর্মকর্তারা অপেক্ষায় থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেন্ডার জমা পড়ে মাত্র একটি — শেখ জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন আকিজ রিসোর্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি তাসিফ আহমেদ জিসান জানান, দরপত্র জমা দেওয়ার সময় তাঁদের কেউ বাধা দেয়নি।
"সময় ম্যানেজ করতে না পারায় আমরা নিজেরাই টেন্ডারে অংশ নিতে পারি নাই। কেউ কাউকে হুমকি দেয়নি। আর এখানে সীমিত যে কয়টি প্রতিষ্ঠান পরিবহনের কাজ করে, তারা সবাই পরস্পরের পরিচিত।"
মো. কামাল হোসেন (জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি) আজকের পত্রিকাকে বলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মতিঝিল (বিএডিসি দপ্তর)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মো. কামাল হোসেন (জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি), মো. আজিজুল ইসলাম (বিএডিসি চেয়ারম্যান), আজিম উদ্দিন (জিএম, সার ব্যবস্থাপনা), তাসিফ আহমেদ জিসান (আকিজ রিসোর্স প্রতিনিধি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ হাজার টন (সার), ১৬ সেপ্টেম্বর (দরপত্র আহ্বান শুরু), ২৯ সেপ্টেম্বর (জমাদানের শেষ তারিখ), ৩০ হাজার টন (পুনঃদরপত্রের পরিমাণ), ৬৬৮ জন (বিসিএস চূড়ান্ত ফলাফলে মনোনীত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!