📌 বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন লবণ মৌসুমের আগে দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে লবণচাষিরা দাবি করছেন দেশে কোনো ঘাটতি নেই এবং এই সিদ্ধান্ত তাদের লাভের মুখে বাধা সৃষ্টি করবে। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুত ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে
বাংলাদেশের লবণ উৎপাদন ও আমদানি নীতিতে বিতর্কের জ্বালা সৃষ্টি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। নতুন লবণ মৌসুমের আগে দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দিলে লবণচাষিরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা দাবি করছেন, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই এবং এই সিদ্ধান্ত তাদের অর্থনৈতিক লাভের মুখে বাধা সৃষ্টি করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নতুন মৌসুমের আগে।
- 📌 ২১ লাখ টন পরিশোধিত লবণের চাহিদা পূরণের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও লবণচাষিরা তা প্রত্যাখ্যান করছেন।
- 📌 ৪ লাখ ৯০ হাজার টন মাঠপর্যায়ে এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার টন মিলে মজুত রয়েছে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে বিসিকের তথ্য।
- 📌 ৭০ শতাংশ ভোজ্য ও শিল্প খাতের লবণের বাজার দখলে আছে ৭টি আধুনিক মিলের।
- 📌 ২৪৪টি মিল মধ্যে ৮৬টি মিল গত বছরের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত কোনো ভোজ্য লবণ উৎপাদন করেনি।
- 📌 ৩৮০ টাকা মণপ্রতি বর্তমানে লবণের দাম, যা মৌসুমের শুরুতে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা লোকসানে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঘাটতির আশঙ্কায় দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে লবণচাষিরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। লবণচাষিরা কয়েক মাস লোকসানের পর কিছুটা লাভের মুখ দেখছিলেন, কিন্তু এই আমদানির অনুমতি দিলে তাদের লাভের সম্ভাবনা কমে যাবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশে পরিশোধিত লবণের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ২১ লাখ টন। এর মধ্যে খাওয়ার লবণ সাড়ে ৭ লাখ টন, শিল্পে ব্যবহারের লবণ সাড়ে ৯ লাখ টন, মাছ চাষের ৩৭ হাজার টন এবং প্রাণিসম্পদ খাতের ৩ লাখ ৬ হাজার টন। তবে বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ৪ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মিলে ১ লাখ ৭৭ হাজার টন লবণ মজুত রয়েছে। প্রতি মাসে দেশের চাহিদা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টন। সে হিসেবে বর্তমান মজুত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশ লবণচাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ জে এম সিয়াম বলেন, গত মৌসুমে প্রতি মণ লবণের উৎপাদন ব্যয় ছিল ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা। মৌসুমের শুরুতে চাষিরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা লোকসানে লবণ বিক্রি করেছেন। বর্তমানে মণপ্রতি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন। তিনি বলেন, এমন সময়ে আমদানির অনুমতি দিলে দাম কমে যাবে এবং চাষিরা আবার লোকসান করবেন।
বাংলাদেশ লবণ মিলমালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, সংগঠন পরিচালনা করতে গেলে বৈষম্য করা যায় না। সংকটের ঝুঁকি এড়াতেই সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে তিনি জানান, অতীতে অনেক মিলমালিক আদালতে গেছেন উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়ার কারণে। এবার কেউ আমদানির অনুমতিপত্র বিক্রি করলে তার নিবন্ধন বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
"গত মৌসুমে প্রতি মণ লবণের উৎপাদন ব্যয় ছিল ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা। মৌসুমের শুরুতে চাষিরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা লোকসানে লবণ বিক্রি করেছেন। বর্তমানে মণপ্রতি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় তাঁরা কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন। এমন সময়ে আমদানির অনুমতি দিলে দাম কমে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সরোয়ার হোসেন (বিসিকের লবণ সেলের প্রধান), এ জে এম সিয়াম (বাংলাদেশ লবণচাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক), নুরুল কবির (বাংলাদেশ লবণ মিলমালিক সমিতির সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ লাখ টন (লবণের মোট চাহিদা), ৪ লাখ ৯০ হাজার টন (মাঠপর্যায়ে মজুত), ১ লাখ ৭৭ হাজার টন (মিলে মজুত), ২ লাখ ২০ হাজার টন (মাসিক চাহিদা), ৩৮০ টাকা (বর্তমান দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!