📌 কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিরা ৪ লাখ টন অবিক্রীত লবণে লোকসান হচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিলে চাষিরা উদ্বিগ্ন। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চাষিরা লোকসান হচ্ছেন, এমনকি ঋণও পরিশোধ করতে পারছেন না
কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিরা উৎপাদিত লবণ বিক্রি করতে না পেরে বড় লোকসান হচ্ছেন। দেশে উৎপাদিত প্রায় চার লাখ টন লবণ অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দিলে চাষিরা নতুন করে উদ্বেগে ভোগা শুরু করেছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন, আমদানি করা লবণ বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় লবণের দাম আরো নিচে যাবে এবং আগামী মৌসুমে লবণ উৎপাদনে আগ্রহ হারাবেন চাষিরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ৪ লাখ টন লবণ অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চাষিরা লোকসান হচ্ছেন
- 📌 হারুনুর রশিদ (চকরিয়া) ৬০ একর জমিতে উৎপাদিত লবণ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৪০ লাখ টাকা, ৩০ লাখ টাকা লোকসান
- 📌 নুরুন নবী (বদরখালী) ৩০০ একর জমিতে উৎপাদনে ৮০ লাখ টাকা লোকসান, ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না
- 📌 বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিলে চাষিরা উদ্বিগ্ন, দাবি করা হচ্ছে মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা না করা হয়েছে
- 📌 গত মৌসুমে ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টন, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৯ লাখ ৩৫ হাজার টন
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজার উপকূলের চকরিয়া এলাকায় উৎপাদিত লবণ বিক্রি করতে না পেরে চাষিরা বড় লোকসান হচ্ছেন। এ এম ওমর আলী চকরিয়া উপকূলের চাষিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুনছেন তারা। হারুনুর রশিদ, চকরিয়া পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বলেন, তিনি ৬০ একর জমিতে লবণ উৎপাদন করেছেন। প্রতি ৮০ কেজির বস্তা লবণ ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন, কিন্তু বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা পরিবহন খরচ হয়েছে। তিনি প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন, কিন্তু বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৪০ লাখ টাকা। প্রায় ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে তার।
চট্টগ্রামের বদরখালীর চাষি নুরুন নবী বলেন, তিনি ৩০০ একর জমিতে লবণ উৎপাদনে নিজস্ব পুঁজির পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছেন। লোকসানের কারণে ঋণের পুরো টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারছেন না। তার দাবি, প্রায় ৮০ লাখ টাকা লোকসান গুনে তিনি এখন হতাশায় নিমজ্জিত। অন্যদিকে, মাতামুহুরীর চাষি নজরুল ইসলামের প্রায় ৫০ টন লবণ এখনো অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে কক্সবাজারের ৯টি উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে লবণ চাষ হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টন, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৯ লাখ ৩৫ হাজার টন। উৎপাদন কম হলেও মাঠ ও বিভিন্ন স্থানে প্রায় চার লাখ টন লবণ অবিক্রীত রয়েছে। ফলে নতুন মৌসুম শুরুর আগে পুরনো লবণ বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
"মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এতে লবণচাষি ও এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আগামী ডিসেম্বরে অনেক চাষিই উৎপাদনে নামবেন না বলে আশঙ্কা রয়েছে।"
— মিজানুর রহমান চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চকরিয়া, মাতামুহুরী, পূর্ব বড়ভেওলা, বদরখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হারুনুর রশিদ, নুরুন নবী, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাতামুহুরীর চাষিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ টন (অবিক্রীত লবণ), ৬০ একর (হারুনুর রশিদের জমি), ৭০ লাখ টাকা (ব্যয়), ৪০ লাখ টাকা (বিক্রি), ৩০ লাখ টাকা (লোকসান), ৩০০ একর (নুরুন নবীর জমি), ৮০ লাখ টাকা (নুরুন নবীর লোকসান), ১৯ লাখ ৩৫ হাজার টন (উৎপাদন), ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টন (লক্ষ্যমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!