📌 ফ্যাশন ডিজাইনার সাফিয়া সাথী দেশীয় কারুশিল্পের ব্রাইডাল ফ্যাশনে নতুন সম্ভাবনা গড়ে তুলছেন। তিনি কীভাবে পরিবারের প্রত্যাশা ও নিজের পেশাগত স্বপ্নের মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং কীভাবে নকশা নকল ও অর্থায়নের চ্যালেঞ্জগুলি পরাস্ত করেছেন, তা তিনি ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ’ পডকাস্টে ব্যাখ্যা করেছেন
ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে নিজের স্বপ্নের পথে অগ্রসর হওয়া এবং পরিবারের আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা মেটানোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন ঢাকার ফ্যাশন উদ্যোক্তা সাফিয়া সাথী। তিনি দেশীয় কারুশিল্পের ব্রাইডাল ফ্যাশনে নতুন সম্ভাবনা গড়ে তুলছেন। তার এই উদ্যোগের গল্প শোনানোর জন্য প্রথম আলো ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্টে সাফিয়া সাথী অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বাবার প্রত্যাশা মেটানোর পাশাপাশি ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পেশাগত স্বপ্নের পথে অগ্রসর** হন সাফিয়া সাথী, যিনি বাবাকে বলতেন, ‘ব্যারিস্টার হতে চাই’ কিন্তু মন থেকে আগ্রহ ছিল ফ্যাশন ডিজাইনে।
- 📌 **টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির পরিবেশ** তার নকশা ও সৃজনশীলতা গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখে, যেখানে ছোটবেলা থেকেই কাপড়ের রঙ ও বুননের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল।
- 📌 **সোশ্যাল মিডিয়ায় নকশা নকল** হওয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি **কাজের সূক্ষ্মতা ও কারিগরি দক্ষতা** জোরদার করেন, বিশেষ করে ব্রাইডাল ফ্যাশনে নিজস্বতা তৈরি করে।
- 📌 **বাংলাদেশের ব্রাইডাল ফ্যাশনে বৈচিত্র্য** আনে সাফিয়া সাথী, যিনি বলেন, ‘আমাদের দেশেই দক্ষ কারিগর ও ভালো কাপড় আছে, এগুলো কাজে লাগিয়ে স্বতন্ত্র পোশাক তৈরি করা সম্ভব।’
- 📌 **সীমিত অর্থায়নে ব্যবসা পরিচালনা** করার চ্যালেঞ্জে তিনি ব্যাংক ঋণ পাওয়ার পরিবর্তে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে পরিচালনা করেন, এমনকি ম্যানেজার নিয়োগেও সাবধানতা অবলম্বন করেন।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্টে সাফিয়া সাথী বলেছেন, বাংলাদেশের কারুশিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি, কিন্তু তা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা শুধু ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের চিন্তা করি না, দৈনন্দিন ব্যবহারের আধুনিক পোশাকেও আমাদের কাপড় ব্যবহার করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের কাপড়ের উপস্থিতি আছে, কিন্তু নকশা ও প্রচারের ঘাটতি কারণে আমরা বড় ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারিনি।’
সাফিয়া সাথী জানান, তার বাবা চাইতেন তাঁর সন্তানদের অন্তত একজন আইনজীবী বা ব্যারিস্টার হোক। কিন্তু তিনি নিজের আগ্রহ ফ্যাশন ডিজাইনে লুকিয়ে রাখতেন। তিনি বলেন, ‘বাবাকে না দেখিয়ে লুকিয়ে সেলাই করতাম। বাবা ফ্যাশন ডিজাইনকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে দেখতেন না, কিন্তু তিনি চাইতেন আমি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হই। আমি নিজের আগ্রহ ধরে রেখেছিলাম এবং অবসর সময়ে এ কাজে মনোনিবেশ করতাম।’
ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করার পর সাফিয়া সাথী বলেন, ‘আমি নিজের প্যাশন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি মনে হতো। তবে ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলিনি। ক্লাসের বাইরে অবসর সময়টুকু পুরোপুরি এ কাজে দিতাম। সেই সময়ই নিজের অনলাইন পেজ শুরু করি।’
টাঙ্গাইলের পরিবেশ তার নকশা ভাবনায় বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘সেটা অনেক প্রভাব তো ফেলেছেই। আমাদের পরিবারেও সৃজনশীলতার চর্চা ছিল। ছোটবেলায় আমি তাঁতের শাড়ির রঙের সমন্বয় ও বুনন দেখে অনুপ্রাণিত হতাম। ছোটবেলা থেকেই কাপড়ের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ ছিল।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় নকশা নকল হওয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য সাফিয়া সাথী বলেন, ‘আমি যখন বিভিন্ন জায়গায় ব্লক দিয়ে কাজ করতাম, তখন আমার ডিজাইনের সহজ উপাদানগুলো দ্রুত কপি হয়ে যেত। পরে বুঝতে পারি, কাজের সূক্ষ্মতা ও কারিগরি দক্ষতা জোরদার করতে হবে।’ তিনি ব্রাইডাল ফ্যাশনে নিজস্বতা তৈরি করে এই চ্যালেঞ্জগুলি পরাস্ত করেছেন।
"আমি চেয়েছি বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশেষ অনুষ্ঠান বা বিয়ের পোশাক কেনার জন্য অন্য দেশে যেতে বাধ্য না হন। আমাদের দেশেই দক্ষ কারিগর আছেন, ভালো কাপড় আছে এবং নকশা তৈরির সম্ভাবনাও অনেক। এসবকে কাজে লাগিয়ে স্বতন্ত্র কিছু তৈরি করা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাফিয়া সাথী (ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (পডকাস্টের সিজন নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!