📌 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে বায়েরা অনুমোদন দিলে আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ ধাপে পৌঁছলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় নামবে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) আজ অনুমতি দিয়েছে। এই অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে। সফল পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান ঘোষণা দেন যে, পরের ধাপের কার্যক্রম শুক্রবার থেকে শুরু হবে। দু-তিন দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)
- 📌 আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
- 📌 নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি পাওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়
- 📌 ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে
- 📌 বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হবে
- 📌 রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে
- 📌 প্রকল্পের খরচ বেড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার অনুমতি পাওয়ার পিছনে রয়েছে নিরাপত্তা পরীক্ষা ও যাচাইয়ের একটি জটিল প্রক্রিয়া। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফল বায়েরার কাছে জমা দেওয়ার পর আজ অনুমোদন পায়। বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, “দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর আজ পরের ধাপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ধাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ যাচাই করা হয়েছে।”
রূপপুরের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে। এই ভালভগুলো চুল্লির ভেতরের চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে তা কমিয়ে নিরাপদ অবস্থায় রাখতে এটি কাজ করে। পরীক্ষা শুরুর আগে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও যাচাই করা হয়েছিল। এ মাসের শেষে চুল্লিপাত্রের ভেতরে তাপশক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হলে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এই পর্যায়ে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে ৩ থেকে ধাপে ধাপে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
"যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্রতিটি ধাপের অনুমতি দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর আজ পরের ধাপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।"
— মাহমুদ হাসান, বায়েরা চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাবনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহমুদ হাসান (বায়েরা চেয়ারম্যান), বিশেষজ্ঞদের, কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ মেগাওয়াট (বিদ্যুৎ উৎপাদন), ৩০-৪০ দিন (ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি), ৩০ শতাংশ (উৎপাদনক্ষমতা), ৩৩তম (বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেশ), ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা (প্রকল্প খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!