📌 মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে ব্যাপক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শোধনাগার ক্ষতির কারণে ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানির দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে ব্যাপক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শোধনাগার ক্ষতির কারণে ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানির দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের আগের তুলনায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের চেয়ে কম।
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় শুরুতে ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়, কিন্তু বর্তমানে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কমে গেছে।
- 📌 হুথি বিদ্রোহীরা বাব এল–মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করছে।
- 📌 বিশ্ববাজারে তেলের ব্যবহার প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল কমেছে, বিশেষ করে চীন অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
- 📌 ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে: যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫২ ডলার, ফ্রান্সে প্রতি লিটার ২ দশমিক ৪১ ইউরো (প্রতি গ্যালনে ১০ দশমিক ৪০ ডলার)।
- 📌 নোবেল পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যানের মতে, বর্তমান সংকট মূলত অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি পেট্রোলিয়াম পণ্যের সংকট।
- 📌 রাশিয়া ইউক্রেনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে, যা সরবরাহে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
- 📌 উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের তেল শোধনাগারে হামলার কারণে ডিজেলের বাজার সংকটের মধ্যে রয়েছে।
- 📌 পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাডের জানিভ শাহ বলেছেন, সরবরাহে বিঘ্নের কারণে সব অঞ্চলে ডিজেলের দাম বেড়েছে, বিশেষ করে ইউরোপ ঝুঁকিতে রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ শুধু বাধাগ্রস্তই হচ্ছে না, তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পাম্পের ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে। ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সংঘাত শুরুর আগে বিশ্ব অর্থনীতি প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করত। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় শুরুতে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সৌদি আরব কিছু তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের দিকে সরিয়ে নেয় এবং কিছু তেলবাহী জাহাজ আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল শুরু করে। বর্তমানে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কমে গেছে, কারণ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব এল–মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
বিশ্ববাজারে এই ধাক্কার প্রভাব কিছুটা কমেছে, কারণ বিভিন্ন দেশের হাতে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত তেলের মজুত ছিল যথেষ্ট। ২০২৫ সালে তেলের উৎপাদন ব্যবহার বা চাহিদার চেয়ে বেশি থাকায় এসব মজুত তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) অনুযায়ী, বিশ্বে তেলের ব্যবহার প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি কমেছে। বিশেষ করে চীন অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং অন্য জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকেছে। আইইএর হিসাব অনুযায়ী, ‘পর্যবেক্ষণ করা বৈশ্বিক তেল মজুত’ যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখন প্রায় ৫০ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে চীনের মতো দেশগুলো নেই, যেসব দেশ নিজেদের তেল মজুতের তথ্য প্রকাশ করে না।
নোবেল পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যানের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মূলত অপরিশোধিত তেলের সংকট নয়, বরং অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি পেট্রোলিয়াম পণ্যের সংকট। তিনি বলেছেন, এই সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ হলো বিশ্বজুড়ে তেল শোধনক্ষমতার ঘাটতি। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বেশ কিছু তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়াও জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অবশিষ্ট ক্রেতারা জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের বড় রপ্তানিকারক। ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে, যা ডিজেলের বাজারকে সংকটের মধ্যে ফেলেছে।
"বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মূলত অপরিশোধিত তেলের সংকট নয়, বরং অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি পেট্রোলিয়াম পণ্যের সংকট।"
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ বলেন, ‘সরবরাহে বিঘ্ন বৈশ্বিক হওয়ায় সব অঞ্চলেই ডিজেলের দাম বেড়েছে। তবে ইউরোপ বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ইউরোপ ডিজেলের নেট আমদানিকারক। স্বল্পমেয়াদে এই সংকট মোকাবিলার সুযোগ খুব বেশি নেই। প্রযুক্তিগতভাবে কাগজে-কলমে কিছু অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু খুব অল্প পরিমাণ ক্ষমতাই দ্রুত সক্রিয় করা সম্ভব। তার ওপর প্রয়োজনীয় ধরনের অপরিশোধিত তেলও দ্রুত সরবরাহ করা কঠিন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্ববাজার, মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর, বাব এল–মান্দেব প্রণালি, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পল ক্রুগম্যান, জানিভ শাহ, তোরিল বোসোনি, ফরাসি কর্মকর্তারা, হুথি বিদ্রোহীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ব্যারেল (ঘাটতি), ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল (প্রতিদিনের ব্যবহার), ২ কোটি ব্যারেল (সরবরাহ বন্ধ), ১০ লাখ ব্যারেল (ব্যবহার কমেছে), ৫০ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল (মজুত কমেছে), ৬ দশমিক ৫২ ডলার (যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম), ২ দশমিক ৪১ ইউরো (ফ্রান্সে ডিজেলের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!