📌 বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকার আদায়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আইনি সংস্কার, ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রণোদনা নীতিমালা হালনাগাদের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার আদায়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে, আইনি কাঠামো সংস্কার করে এবং প্রণোদনা নীতিমালা হালনাগাদ করে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১.৪১ শতাংশ
- 📌 গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা
- 📌 শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনার প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
- 📌 শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি ব্যাংকার্স সভায় পর্যালোচনা করা হবে
- 📌 আইএফআরএস-৯ মান অনুসারে ঋণক্ষতি নিরূপণ ও সংস্থান রাখার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা
- 📌 খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের আইনি দিক পর্যালোচনা চলছে
- 📌 ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা ও ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে
- 📌 দীর্ঘমেয়াদে (৪-৫ বছর) ঋণ অনুমোদন থেকে আদায় পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
- 📌 ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর সংশোধিত খসড়া পাঠানো হয়েছে; অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়নের কাজ চলছে
- 📌 বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম বলেছেন, ঋণ আদায়ে উভয় পক্ষকে কার্যকর প্রণোদনা দিতে হবে
📰 বিস্তারিত
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হবে।
ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে। ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বিদ্যমান নির্দেশিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) অনুসারে সম্ভাব্য ঋণক্ষতি নিরূপণ এবং ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংস্থান রাখার ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের আইনি দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরে ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে (৪-৫ বছর) ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর আগে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
"ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করতে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা—উভয় পক্ষকে কার্যকর সমাধান খুঁজতে উৎসাহিত করার মতো প্রণোদনা তৈরি করা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুশফিকুর রহমান (সভাপতি), জ্যঁ পেম (বিশ্বব্যাংক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা (খেলাপি ঋণ), ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩ মাসে বৃদ্ধি), ১০ শতাংশ (শ্রেণিকৃত ঋণ হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!