📌 রাঙামাটির নানিয়ারচরে নির্মিত আনারস চিপস কারখানা উদ্বোধনের পর বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে। ৪০ লাখ টাকার এই প্রকল্পে নির্মিত যন্ত্রপাতি অবহেলায় ধুলায় ডুবে পড়েছে। কৃষকদের আনারস নষ্ট হওয়ার সমস্যা সমাধানে কারখানাটি চালু না হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন
রাঙামাটির আনারসের খ্যাতি দেশব্যাপী রয়েছে। কিন্তু মৌসুমে উৎপাদিত ফলগুলি পচে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আশা করে নির্মিত হয়েছিল নানিয়ারচরে একটি আনারস চিপস কারখানা। তবে উদ্বোধনের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে ব্যর্থ হওয়ায় কারখানাটি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে ৪০ লাখ টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি অবহেলায় ধুলায় ডুবে পড়েছে এবং কৃষকদের আনারস নষ্ট হওয়ার সমস্যা আরো বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাঙামাটির নানিয়ারচরে আনারস চিপস কারখানা উদ্বোধনের পর বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে।
- 📌 ২০২১ সালের জুনে উদ্বোধন করা হলেও কারখানাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং যন্ত্রপাতি অবহেলায় ধুলায় ডুবে পড়েছে।
- 📌 কৃষকদের আনারস নষ্ট হওয়ার সমস্যা সমাধানে কারখানাটি চালু না হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
- 📌 ৬৬টি হর্টিকালচার সেন্টারের মধ্যে একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত কারখানাটি বর্তমানে বন্ধ থাকায় সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে।
- 📌 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দ্রুত কারখানাটি চালু করার চেষ্টা করছে, কিন্তু দক্ষ জনবল ও কারিগরি সহায়তার অভাবের কারণে ব্যর্থতা অব্যাহত।
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটি জেলায় ব্যাপকভাবে আনারস চাষ করা হয়। তবে মৌসুমে উৎপাদিত ফলগুলি পচে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ২০২১ সালের জুনে উদ্বোধন করা হয়েছিল নানিয়ারচরে একটি আনারস চিপস কারখানা। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই কারখানাটি ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ প্রকল্পের অংশ ছিল। প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ২৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৪৮টি জেলার ৬৬টি হর্টিকালচার সেন্টারে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
কারখানাটি উদ্বোধনের পর ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা হলেও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষ জনবল ও কারিগরি সহায়তার অভাবের কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, বড় আকারের আনারস পাইকারদের কাছে বিক্রি করা যায়, কিন্তু ছোট ও মাঝারি আকারের ফলগুলি অবহেলায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকে। কারখানাটি চালু থাকলে এসব আনারস প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যপণ্য তৈরি ও বিক্রি করা যেত।
কারখানাটি বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি অবহেলায় ধুলায় ডুবে পড়েছে। স্থানীয় কৃষক মো. হানিফ বলেন, ‘কারখানাটা চালু হলে আমাগো খুব ভালো হতো। কত আনারস যে পচে যায়, অন্তত হেইডা হতো না।’ আরেক কৃষক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আনারস চাষ করি। ছোট আনারসগুলো অবহেলায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকে। কারখানাটি চালু হলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হতো আর আমরাও পড়ে থাকা আনারস বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতাম।’
রাঙামাটি বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহবুবুর রশীদ জানান, ‘২০২১-২২ সালের দিকে প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে চালু ছিল এবং কিছু লোকবলকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। তবে কারখানাটি নিজস্ব আয়ে লাভজনক হতে পারেনি। তাই বন্ধ হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা বেসরকারি উদ্যোক্তার মাধ্যমে হোক কিংবা রাজস্ব খাতে নিয়ে হোক—এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি। পরিচালক ও মহাপরিচালক স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি অচিরেই কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হবে।’
"দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের অভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে আলোর মুখ দেখেনি কারখানাটি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি কয়েকবার পরিদর্শন করেছে। দ্রুত কীভাবে এটি চালু করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নানিয়ারচর, রাঙামাটি জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হানিফ, মোহাম্মদ আলমগীর, মো. জোবায়দুর রহমান ভাসানী, মো. মাহবুবুর রশীদ, মো. মনিরুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ লাখ টাকা (কারখানার ব্যয়), ৪৮টি জেলা, ৬৬টি হর্টিকালচার সেন্টার, ২৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা (মোট প্রকল্প ব্যয়), ২০২১ (উদ্বোধন বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!