📌 রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন ও পানিসঙ্কট মোকাবেলায় বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ২০২৭ সালের মধ্যে ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালু, কৃষক ও পরিবারগুলোর জন্য কার্ড ব্যবস্থা চালু ও পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনসভায় ১৫টি চিনিকল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ শুরু হয়।
রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন ও পানিসঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি ঐতিহাসিক জনসভায় বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। এছাড়াও কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড চালু ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৭ সালের মধ্যে ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে
- 📌 ১৫টি চিনিকল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ শুরু হয়, যা কম্পিউটার বোতাম চেপে মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়
- 📌 কৃষক কার্ড চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, যা কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক, ফসলের বিমা ও ব্যাংক ঋণ সহায়তা প্রদান করবে
- 📌 ফ্যামিলি কার্ড চালু করার পরিকল্পনা, যা পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়িয়ে নারীদের নেতৃত্বে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে
- 📌 উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যা ও ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু হবে
- 📌 পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা রাজশাহীসহ ১৪টি জেলার পানিসঙ্কট মোকাবেলায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে
- 📌 ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের স্মরণে নিহতদের পরিবারের কর্মসংস্থান ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন ও পানিসঙ্কট মোকাবেলায় বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের আরো ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এসব কারখানা চালু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে সহায়তা, ফসলের বিমা, ব্যাংক ঋণ এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে এবং নারীদের নেতৃত্বে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যা এবং ডায়ালাইসিসের সুবিধা চালুর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের পানিসঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগের কথা বলেন। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চল এবং প্রায় ১৪টি জেলা উপকৃত হতে পারে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কিছু কলকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা এবং দেশের একটি গোষ্ঠীকে বিদেশ থেকে অর্থায়নের বিষয়ে অভিযোগও তোলেন। তবে বক্তব্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পরিচয় তুলে ধরা হয়নি।
"২০২৭ সালের মধ্যে ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এসব কারখানা চালু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।"
এছাড়াও, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজশাহীর বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল ও রেশম কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, মাদরাসা মাঠ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রুহুল কবির রিজভী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬টি কারখানা, ১৫টি চিনিকল জোন, ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি, ১২ কোটি টাকা, ৫০ থেকে ১৫০ শয্যা, ১৪টি জেলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!